চাকরিহারা ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলনে ঝাঁপাতে চাইছে সিপিএম
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
একদিকে মাদুরাইয়ে চলছে পার্টির ২৪তম কংগ্রেস, আর অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট বাংলার বিতর্কিত ২০১৬ এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে দিল। ফলে নতুনভাবে প্রাণ পেল রাজ্যের একসময়ের শাসকদল সিপিএম। চাকরিহারা ইস্যুকে সামনে রেখে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছে তাঁরা। রাজ্যের মানুষের মনে রেখাপাত করতে সিপিএম। সেজন্য বামশিবির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার রূপরেখা তৈরি করছে বলে সূত্রের খবর। এভাবে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল ইস্যুকে সামনে রেখে বাংলার ভোট ব্যাংককে চাঙ্গা করতে চাইছে তারা।
এই মুহূর্তে মাদুরাইয়ে দলের পার্টি কংগ্রেসে রয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের চাকরি বাতিলের রায়ের গুরুত্ব বিচার করে পার্টি কংগ্রেসের মধ্যেই ফেসবুক লাইভে এসেছেন। ডিওয়াইএফআই-এর ফেসবুক পেজ থেকে ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের কথোপকথনে সেলিম-মীনাক্ষীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চাকরিহারা ইস্যুকে সামনে রেখে সিপিএম ফের আন্দোলনে ফিরতে চাইছে।
মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘হতাশ হওয়ার জায়গা নেই। চাকরিপ্রার্থীরা বছরের পর বছর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্যের দুর্নীতির ফলে যোগ্যদেরও চাকরি গেল। চাকরি প্রার্থী, যাদের চাকরি গেল, সকলকে একসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। না হলে আবার যে নিয়োগ হবে, সেখানেও দুর্নীতি হবে।’
পাশাপাশি সেলিম বিষয়টি নিয়ে বাংলার মানুষকেও সরব হতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ‘আলি বাবা ও চল্লিশ চোরের’ প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি করল সরকার অথচ যোগ্যরাও চাকরি হারা হলেন। ২৬ হাজারের বাইরেও যারা রয়েছেন, তাদেরও শুনতে হবে, কবে আপনারা নিয়োগ পেয়েছেন। এভাবে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত বছর ঘুরলেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে চাকরিহারা ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি জোরদার আন্দোলন সংগঠিত করতে চলেছে। তাই বিজেপি ও তৃণমূলকে সামনে রেখে রণকৌশল সাজাচ্ছেন বামেরা। সেলিমের দাবি, ‘বিজেপি বলবে স্বচ্ছ নিয়োগ করব। তাতো নয়। অন্য রাজ্যেও হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে সবার প্রথম এই দুর্নীতি হয়েছে। ওখানে আরএসএস-এর কাছ থেকে তৃণমূল দুর্নীতির পাঠ নিয়েছে। ফলে তৃণমূল আর বিজেপি মুদ্রার ওপিঠ আর ওপিঠ। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষমতায় থাকলে কখনও স্বচ্ছ নিয়োগ হতে পারে না। তাই মূল বিষয় থেকে নজর ঘোরাতে এরা মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে। রাম মন্দির নিয়ে মানুষকে মাতিয়ে রাখতে চাইছে। এটা মানুষকে বুঝতে হবে। বামফ্রন্টের আর এক উঠতি নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি। এবার মানুষকেও আওয়াজ তুলতে হবে।’
অন্যদিকে আইনজীবী ও রাজ্য সভার সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোর্ট তো আর কোনও নির্বাচিত সরকারকে শাস্তি দিতে পারে না। আশা করব, যারা ভোট দিয়েছেন তারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে শাস্তি দেবেন।’
উল্লেখ্য, ২ এপ্রিল তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে সিপিএম-এর ২৪তম পার্টি কংগ্রেস শুরু হয়েছে। দক্ষিণী তারকাদের নিয়ে বর্ণাঢ্য এই পার্টি কংগ্রেস চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর সেখান থেকে ফিরেই চাকরি বাতিল ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার ও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন তাঁরা। তবে সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়িয়ে বাংলার ভোট ব্যাঙ্ক চাঙ্গা করা সহজ হবে কিনা, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। অপেক্ষা করতে হবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন অবধি।