শীর্ষ আদালতের এই রায়ে জেলার কালনার একাধিক স্কুল সমস্যায় পড়েছে। ইতিমধ্যেই ছাত্রের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম স্কুলগুলিতে। আর তার পর এই শিক্ষক বাতিলে স্কুলগুলিতে পড়ানোর ক্ষেত্রে আগামী দিনে আরও সমস্যা হবে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তার পরেই জেলায় জেলায় মাথায় হাত পড়েছে স্কুলগুলোর। প্যানেল বাতিলের জেরে একটি স্কুল থেকেই একাধিক শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, এমন হয়েছে বহু ক্ষেত্রে। পূ্র্ব বর্ধমানের ছবিটাও আলাদা নয়। কালনা মহকুমার একাধিক স্কুলের পঠনপাঠনের ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কালনার স্কুলগুলির ছবি কী রকম?
প্যানেল বাতিলের জেরে কালনা মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ছ’জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। এই স্কুলে প্রায় ১৮০০ পড়ুয়া রয়েছে। মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ুয়া এবং অন্য ক্লাসগুলোও রয়েছে। এদের পঠনপাঠনের কী হবে তা ভেবে দিশেহারা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এত বড় স্কুলে একসঙ্গে এত শিক্ষকের চাকরি চলে গেলে কী ভাবে পিরিয়ড সাজাবেন, তা-ও ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।
৩৬ জন শিক্ষক ছিলেন এই স্কুলে। তাঁদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। বায়োলজি, ইংরেজি মতো বিষয়ের শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। এর ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ুয়াদের সমস্যা হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঘুনাথ মণ্ডল। তিনি এ দিন বলেন, ‘এত ছাত্রদের কীভাবে সমস্ত পিরিয়ড করাব, সেই নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।’ যে ছ’জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের মধ্যে চার জন শিক্ষক এ দিন স্কুলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তাঁরা।
একই ছবি কালনার শশীবালা সাহা গার্লস হাই স্কুলেও। সেখানেও দু’জন শিক্ষিকা এবং একজন গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি গিয়েছে। এদিন ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মল্লিকা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পরিচালন সমিতির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে কী করা যায়। স্কুল যে ভাবেই হোক চালাতে হবে। অন্তত ৫০০ জন ছাত্রী রয়েছে। আজ পরীক্ষাও ছিল।’
এই পরিস্থিতিতে স্কুল চালাতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে বলে জানালেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। ওই স্কুলে গ্রুপ ডি কর্মী ছিলেন একজনই। তাঁর চাকরি বাতিল হওয়ায় ওই পদ শূন্য হয়ে গেল, ফলে সেই কাজ এখন কে করবে তার উত্তর নেই কোনও।
কালনার নিগমানন্দ বিদ্যামন্দির হাইস্কুলে মোট ৫ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন শিক্ষক, একজন গ্রুপ ডি এবং একজন ক্লার্ক। শীর্ষ আদালতের রায়ে ওই স্কুলও সমস্যায় পড়েছে। কালনার হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের ছ’জন শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে প্যানেল বাতিলের জেরে। ৭ এপ্রিল থেকে ওই স্কুলে পরীক্ষা। কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা নিয়ে দিশাহারা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। এ বিষয়ে এআইয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছুই বলতে রাজি হননি।