সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় রাতারাতি বদলে দিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্রটাকে। জেলায় জেলায় দিশেহারা বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। যে বিষয়ের শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, সেই বিষয়ে পরের দিন থেকে পড়াবেন কে? একই স্কুল থেকে একাধিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ায় অনেক স্কুলে পঠনপাঠন চালানো নিয়েই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এর মধ্যেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রকট হয়ে উঠেছে। চাকরিহারা অনেক শিক্ষকের কাঁধেই ছিল মাধ্যমিক - উচ্চ মাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব। সেগুলির কী হবে?
বিষয়টি নিয়ে ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি জানালেন, কতজন শিক্ষক (যাঁরা চাকরিহারা হয়েছেন) খাতা দেখছিলেন, সেই তালিকা নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা উচ্চমাধ্যমিক সংসদ এখনও পর্যন্ত পর্যালোচনা করার সময় পায়নি। হঠাৎ এই রায় আসায় বিষয়টি দেখা হয়নি।
তবে তাঁর মতে, ‘চাকরি চলে গিয়েছে বলে যাঁরা খাতা দেখতে চাইবেন না, তাঁদের খাতা দেখতে বাধ্য করতে পারে না পর্ষদ বা সংসদ। অন্য শিক্ষকদের দিয়েই ওই খাতাগুলির মূল্যায়ন করাতে হবে।…তবে পরিক্ষার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে পর্ষদ ও সংসদকে।’ এই ক্ষেত্রে কোনও শিক্ষক যদি বলেন, আমার আর চাকরি নেই, আমি খাতা দেখতে পারব না। তা হলে যে কয়টি খাতা তিনি দেখেছেন, সেগুলি জমা দিতে হবে বলে, জানান তিনি। সে ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু করা প্রয়োজন। এর ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পিছিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। আবার অনেকে বলছেন, মাধ্যমিকের খাতা দেখা প্রায় শেষ। উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখাও কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে। ফল প্রকাশ পিছিয়ে যাওয়ার বিষয় নেই।
বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছেন বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল গয়েশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পারমিতা গিরি বাগ বলেন, ‘আমাদের স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২৪০০। আগে থেকেই স্কুলে ৮টি শূন্যপদ রয়েছে। তার উপর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিন জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। ফলে ১১ জন শিক্ষিকার অভাব। পরীক্ষার খাতা দেখা কী ভাবে সম্ভব হবে বুঝে উঠতে পারছি না। খুব সমস্যায় পড়তে হবে।’
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মেদিনীপুর জেলা মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক রামজীবন মাণ্ডি বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখার প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন ইতিমধ্যেই খাতা দেখা শেষ করে জমা দিয়েছেন। কয়েকজনের বাকি আছে। আশা করছি রাজ্য সরকারের নির্দেশ আসার আগে তাঁরাও খাতা দেখা সম্পূর্ণ করে জমা দেবেন।’
তথ্য সহায়তা: রঞ্জন মাইতি, মণিরাজ ঘোষ