পাত্র সরকারি চাকরি বলে কথা! তও আবার স্কুলের শিক্ষকতার চাকরি। জাতপাত না দেখে মেয়ের জন্য পাত্র বাছাই করেছিলেন নদিয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা শিবু চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি বাতিল জামাইয়ের। খবর শুনেই কেঁদে ভাসালেন শ্বশুরমশাই।
নদিয়ার শান্তিপুরের শরৎকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন বিএড নিয়ে পড়াশোনা করছেন শান্তিপুরের বাসিন্দা সাথী চট্টোপাধ্যায় নামে এক গৃহবধূ। তাঁর স্বামী শিলিগুড়ির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালের এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই তালিকায় রয়েছে সাথীর স্বামীর নামও।
খবর জানাজানি হতেই ভেঙে পড়েছেন সাথীর বাবা শিবু চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলে, ‘ব্রাহ্মণ নয় বলে ওই পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে প্রথমে আপত্তি ছিল। কিন্তু পাত্র সরকারি চাকরি করে বলে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু সেই চাকরিও আর রইল না!’ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাউ হাউ করে কেঁদে ভাসালেন তিনি।
বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি নদিয়াতেও চাকরি বাতিলের তালিকায় একাধিক শিক্ষক এবং শিক্ষিকা রয়েছেন। নদিয়ার শান্তিপুরের শরৎকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’জন শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লীনা বিশ্বাসের দাবি, প্রায় দুই হাজার ছাত্রী রয়েছে এই বিদ্যালয়ে। বরাবরই শিক্ষিকার সংখ্যা কম থাকায় যে দু’জনের চাকরি চলে গেল তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। এখন স্কুল কী ভাবে চলবে, তা যথেষ্টই অনিশ্চয়তা রয়েছে।