প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল। ব্যপক কারচুপি। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এমনটাই জানিয়েছে রায় ঘোষণার সময়।
এদিকে চাকরি বাতিলের জেরে বহু সংসারে নেমে এসেছে অন্ধকার। প্রশ্ন উঠছে কেন এসএসসি যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা আলাদা করল না? একাধিক মেধাবী ছাত্র ছাত্রী যাঁরা শিক্ষকতার চাকরি বেছে নিয়েছিলেন চাকরি গিয়েছে তাঁদেরও।
সূত্রের খবর, এই চাকরি বাতিলের তালিকায় এমন শিক্ষক শিক্ষিকাদের নাম রয়েছেন যাঁদের একেবারে নজরকাড়া রেজাল্ট। চাকরি যাচ্ছে তাঁদেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ড মেডালিস্ট, ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট এমন শিক্ষিকাও চাকরি হারিয়েছেন। একের পর এক মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে মাশুল গুনতে হচ্ছে কয়েকজন অযোগ্যদের জন্য। এবার প্রশ্ন কীভাবে অযোগ্যরা এই তালিকায় গেল? সরকার কি কিছুই জানত না? কাদের কাছে গিয়েছিল ঘুষের বিপুল টাকা?
রায়গঞ্জের কৈলাস চন্দ্র রাধারানি স্কুলের এক শিক্ষিকা কৃষ্ণ মৃত্তিকা নাথ তিনি গোল্ড মেডালিস্ট। তিনি বলেন, আমার বাবা মা আমার উপর নির্ভরশীল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। গভর্নরের কাছ থেকে মেডেল নিয়েছি। তারপরেও যদি ঠিক করতে হয় আমি যোগ্য কি অযোগ্য তাহলে কিছু বলার নেই। এত বড় অপমান, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। আমাদের মৃত্যুদণ্ড দিন, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকায় থাকা ইংরেজিতে সারা রাজ্যের প্রথম হওয়া শিক্ষকের নামও রয়েছে বাতিলের তালিকায়। আবার ইতিহাসে সারা রাজ্যের মধ্য়ে সপ্তম হওয়া শিক্ষকের নামও রয়েছে বাতিলের দলে।
কয়েকজন আবার পার্ট টাইম লেকচারারের চাকরি ছেড়ে এসেছিলেন শিক্ষকতায়। তাঁরা এবার অথৈ জলে। অনেকেই লোন নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। ফ্ল্যাট নিয়েছিলেন। গ্রামের বাড়ি বিক্রি করে শহরে এসেছিলেন অনেকে। সুখের ঠিকানা। কিন্তু চাকরি হারাদের এখন একটাই প্রশ্ন এবার কী হবে? কাল থেকে কীভাবে সংসার চলবে? আদৌ কি কাল থেকে স্কুলে যেতে পারব আমরা? ব্যাঙ্কের ইএমআই দেব কীভাবে? এরপর পরীক্ষা দিলে সেই পরীক্ষায় পাস করা কি সহজ কথা? কারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য যে পড়াশোনা করতে হয় সেই পড়াশোনার জায়গা থেকে সরে এসেছেন তাঁরা।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারী এই চাকরিহারাদের নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘সদ্য চাকরিহারাদের পাশে থেকে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডের টাকা থেকে যেন বেতনের ব্যবস্থা করেন। যখন চিটফান্ডের জেরে কিছু চ্যানেল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন সাংবাদিকদের নিজের রিলিফ ফান্ডের টাকা থেকে বেতন দিয়েছিলেন। আপনি জানতেন চিটফান্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাই দিয়েছিলেন। এবার প্রায় ১৯ হাজার যোগ্য চাকরিহারাদেরও সেই ভাবে বেতন দিন। যাতে তাঁরা অর্থকষ্টে না ভোগেন।’
শুভেন্দু বলেন, ‘এখন উনি অনেকেরই দোষ দিচ্ছেন। কিন্তু সেই কবে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া পরেশ অধিকারীর মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দিয়েই প্যানেল ভাঙা শুরু হয়েছিল।’