• ঘটতে পারত আরও বড় অঘটন, ডি বাপি বিরিয়ানির দোকানের কর্মীকে বাঁচিয়ে দিল একটি 'মার্কার পেন'!
    এই সময় | ১৮ মে ২০২২
  • শুধুমাত্র ছোট্ট একটি "মার্কার পেন" (Marker Pen)। আর তাই বাঁচিয়ে দিল একটি প্রাণ। তা যদি বাঁদিকের বুক পকেটে না থাকত তাহলেই ঘটে যেত আরও বড় বিপদ। সোমবার ব্যারাকপুরের (Barrackpore) D Bapi বিরিয়ানির দোকানের সামনে গুলি চালনার ঘটনায় জখম হন দোকানের কর্মী প্রদীপ সিং। তাঁর বুকের বাঁদিক লক্ষ্য করে ছিটকে গিয়েছিল দুষ্কৃতীদের বন্দুক থেকে ছোড়া একটি গুলি। ঠিক সেই সময় পকেটে রাখা ছিল মার্কার পেনটি। আর গুলি গিয়ে লাগে সেই পেনের গায়ে। সেই পেনে গুলি ধাক্কা খাওয়ার পর তা ছিটকে পাঁজরের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বুলেটটি। বর্তমানে প্রদীপ সিং একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছেন তিনি। বুধবারই হাসপাতাল থেকে ছুটি পেতে পারেন।

    সোমবার দুপুরে D Bapi বিরিয়ানির দোকানে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন প্রদীপবাবু। দোকানে সেই সময় ভর্তি ছিলেন ক্রেতারা। আর ক্রেতাদের বিরিয়ানি দিতেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ফলে তাঁর কোনও দিকেই নজর ছিল না। আসলে এই ধরনের ঘটনা যে ঘটতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তিনি। ফলে হাঁড়ি থেকে গরম বিরিয়ানি প্যাকেটে তুলে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ করছিলেন। আর ঠিক সেই সময়ই কাজের জন্য বুক পকেটে মার্কার পেনটিকে রাখতে হয়েছিল তাঁকে। ওই পেন দিয়েই বিরিয়ানির প্যাকেটের গায়ে 'চিকেন' নাকি 'মটন' লিখে চিহ্নিত করে দিচ্ছিলেন। আর সেই পেনই যে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়ে দেবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি প্রথমে গিয়ে লাগে ওই পেনের গায়ে। তারপর তা পাঁজর ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

    দোকানের আরও এক কর্মচারী প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, "আমাদের প্রত্যেকের কাছেই এরকম একটা করে মার্কার পেন থাকে। প্রদীপের কাছেও ছিল। ও বাইরে দাঁড়িয়ে বিরিয়ানি প্যাকেজিংয়ের কাজ করছিল। ওর বুকে মার্কার পেনটিকে ছুঁয়ে গুলিটি বেরিয়ে যায়। গুলির চোটে পেনটি ফেটে গিয়েছে। পকেটে মোটা একটা পেন থাকায় গুলি তা ভেদ করতে পারেনি। তার জেরে ও কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছে। এখন ও অনেকটা ভালো আছে বলে জানতে পেরেছি।"

    ঘটনা পর দু'দিন হয়ে গেলেও এখন থমথমে পরিবেশ গোটা এলাকায়। ব্যারাকপুর-বারাসত (Barrackpore-Barasat road) রাস্তার ধারের বিরিয়ানির দোকানটিতে এখনও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। গত দু'দিনে ক্রেতার পরিমাণ কমায় স্বাভাবিকভাবেই বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছে। যেখানে একদিনে ১৩ থেকে ১৪ হাঁড়ি বিরিয়ানি তৈরি করা হত, সেখানে এই ঘটনার পর নিয়ম করে দু'বেলা বিরিয়ানি রান্না করা হচ্ছে ঠিকই, তবে অনেকটাই কম। ব্যবসায়িক রেষারেষি নাকি পারিবারিক শত্রুতা? কী কারণ রয়েছে এই ঘটনার নেপথ্যে? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। গুলি চালানোর ঘটনার তদন্ত করছেন স্থানীয় মোহনপুর থানার OC উত্তমকুমার সরকার। ঘটনার পর থেকেই বেশ কয়েক দফায় বিরিয়ানির দোকানের মালিক, তাঁর পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে কয়েকজন দুষ্কৃতী হামলা চালায় ব্যারাকপুর-বারাসত রাস্তার ধারে অবস্থিত D Bapi বিরিয়ানির দোকানের সামনে। তিন চার রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার তদন্ত করছে মোহনপুর থানা।
  • Link to this news (এই সময়)