• শিলিগুড়িতে দু’টাকায় 'আপনি তো পাঠশালা, মস্তি কি পাঠশালা', আনন্দে আত্মহারা খুদেরা
    এই সময় | ১৮ মে ২০২২
  • পাঠশালা! না শহিদ কাপুর, নানা পাটেকর অভিনীত হিন্দি সিনেমা ‘পাঠাশালা’ সিনেমা নয়৷ এটি বাস্তবের একটি পাঠশালার গল্প৷ যেখানে দু’ টাকার বিনিময়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে৷ এই দুর্মূল্যের বাজারে যখন জিনিসের দাম আকাশছোয়া, দু’বেলা দুমুঠো অন্ন জোগাতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে ছাপোষা মানুষের, সেখানে মাত্র দু’টাকায় শিক্ষা! এ-ও সম্ভব! শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন বিভিন্ন বস্তি আর চা বাগানের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আজ 'বড় মানুষ' হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এই দু’টাকার পাঠশালায় বসে। হাতে দু’ টাকা নিয়ে তা দিয়ে টিউশন পড়ে ভবিষ্যতে শিক্ষক, চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে পূরণ করতে এগিয়ে চলেছে শিলিগুড়ির বনবস্তি ও চা বাগান এলাকার পড়ুয়ারা। আর ভিড়ও বাড়ছে দু’ টাকার পাঠশালায়। তবে শুধু পড়াশোনা নয়, এই পাঠশালায় গান, আঁকা সহ বেশকিছু জিনিস শেখানো হয়৷

    এরা প্রত্যেকেই সরকারি স্কুলে পড়ে৷ তবে স্কুলের পর বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের পড়ার সাহায্য করতে পারেন না৷ কারণ তাঁদের নিজেদের অজ্রতা৷ ফলে দরকার হয়ে পড়ে প্রাইভেট টিউশন৷ কিন্তু সেজন্য যে টাকা লাগবে। সেই টাকা কোথায়? এখানে কারও বাবা দিনমজুর, তো কারও মা চা বাগানে কাজ করেন। প্রত্যেকের বাড়িতে নুন আনতে পান্তা ফুরনো অবস্থা। ফলে চাইলেও টাকা দিয়ে টিউশন পড়াতে পারেন না বাবা-মায়েরা। এই হতদরিদ্র মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা৷ যাদের উদ্যোগে দু’ টাকায় পাঠশালা চালু হতেই এখন সেখানে সন্তানদের পড়াচ্ছেন শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন বিভিন্ন বস্তি, চা বাগান এলাকার বাসিন্দারা।

    প্রায় দু’ বছর ধরে শহরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে দু’ টাকায় পাঠশালা শুরু করা হয়েছে। ভাবছেন দু’ টাকা কেন? সংগঠনের কর্মকর্তারা বলছেন, সবটাই বিনামূল্যে হলে অনেকেই আসতে চাইবে না। ফলে দু’ টাকা নিলেও তাঁরা ভাববেন যে টাকা দিয়েছি। টিউশন পড়তে যেতেই হবে। এই ভাবনাতেই দু’ টাকার পাঠশালা শুরু করা হয়েছে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাড়াবাড়ি, পাঘালুপাডা, ক্যানেল বস্তি সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় দু’ টাকার পাঠশালা শুরু করা হয়েছে। যেখানে সবমিলিয়ে প্রায় ১০০ জন পড়ুয়ারা টিউশন পড়ছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সহ বিভিন্ন শ্রেণির পড়ুয়ারা এই পাঠশালাগুলিতে টিউশন পড়তে আসছে। পাশাপাশি গান, আঁকাও শেখানো হচ্ছে মাঝেমধ্যে।

    স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ১০-১২ জন সদস্য সকালে এলাকায় এলাকায় গিয়ে শিশুদের পড়াচ্ছেন। সংস্থার কর্ণধার রাকেশ দত্ত বলেন, "প্রচুর বস্তি ও চা বাগান এলাকা আছে, যেখানে শিশুরা টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। তাঁদের জন্য এই দু’ টাকার পাঠশালা। আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু কাজ করি। তার মাঝে যেটুকু সময় পাচ্ছি, সে সময়ে শিশুদের পড়ানোর দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। অনেক বাবা-মা এখন তাঁদের সন্তাদের টিউশন পড়ানোর জন্য নিয়ে আসছেন৷" শেষে বলতেই হয়, ‘‘আপনি তো পাঠশালা, মস্তি কি পাঠশালা...৷’’
  • Link to this news (এই সময়)