• ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে গায়েব রানাঘাটের BJP নেতা! কড়া বার্তা সাংসদ জগন্নাথের
    এই সময় | ১৮ মে ২০২২
  • অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যাবে টাকা (Money)! এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই গ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের থেকে টাকা তুলেছিলেন BJP নেতা অমিতোষ বসু। অভিযোগ, এভাবে প্রায় ৫ কোটি টাকা তুলেছিলেন। কিন্তু, তারপর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে থানায় অভিযোগ জানান আমানতকারীরা। তারপরও কেটে গিয়েছে প্রায় ৬ মাস। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার জেরে এবার দলেরই নেতা-কর্মীদের একাংশ CBI তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, দলের নেতার কাছেই টাকা জমা রেখে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

    ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যে ভালো ফল করেছিল BJP। এমনকী, নদিয়ার (Nadia) রানাঘাটেও বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে সেই কেন্দ্র নিজেদের দখলে রেখেছিল তারা। রানাঘাট, হরিণঘাটা, গাংনাপুর, শান্তিপুর, কল্যাণী-র মতো সাংগঠনিক জেলাও BJP-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এমনকী, ২০২১-এর বিধানসভা (West Bengal Assembly Election) নির্বাচনে যেখানে রাজ্যে বিজেপি ভালো ফল করতে পারেনি, সেখানেও রানাঘাট থেকে ভালো ফল করেছিল গেরুয়া শিবির। শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar)। প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও সেই সময়ও ওই কেন্দ্র তাদের হাতছাড়া হয়নি। আর সেই শক্ত ঘাঁটিতেই খোদ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে দল।

    এই ঘটনা প্রসঙ্গে 'এই সময় ডিজিটাল'-এর পক্ষ থেকে সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "অন্যায় করলে দল তার পাশে নেই। প্রশাসন আশে দেখুন খুঁজে বের করে তাকে শাস্তি দিক। আমরা কোনও অপরাধীকে আড়াল করতে চাই না, সে যেই হোক না কেন।" দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "দলকে যদি বাংলায় শক্তিশালী করতে হয় তাহলে প্রথমেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। যে কোনওরকম অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কখনও কাউতে রেয়াত করা ঠিক নয়।"

    এদিকে অমিতোষ বসুর এই ঘটনা সামনে আসার পরই সেখানে গেরুয়া শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে চলা একাধিক ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়ে সবক্ষেত্রেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিল বিজেপি। সেই দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বঙ্গ বিজেপির নেতারা। আর এবার তাঁদের নিজেদের দলের এক নেতার বিরুদ্ধেই প্রতারণার অভিযোগ তুলল দলেরই একাংশ। কর্মীদের তরফে জানানো হয়েছে, নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার তফসিলি মোর্চার সভাপতি অমিতোষ গাংনাপুরের ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযোগ, তিনি নিজেই যুব স্বনির্ভর সমিতির নামে একটি সমিতি চালু করেছিলেন। আর সেখানেই কম সময়ের মধ্যেই টাকা দ্বিগুণ করার কথা বলে অনেকের থেকেই টাকা তুলেছিলেন তিনি। এভাবে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি গায়েব হয়ে যান বলে অভিযোগ! আর এবার এই ঘটনার জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা।
  • Link to this news (এই সময়)