• পাহাড়ে চা শ্রমিকদের বোনাস মিটিং নিষ্ফলা উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র বাগান সেচ ও বিমার আওতায় আনার দাবি মালিকপক্ষের
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মালিকপক্ষ গরহাজির। তাই বৃহস্পতিবার পাহাড়ের চা শ্রমিকদের পুজো বোনাস ইস্যু নিয়ে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের বৈঠকে নতুন করে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পাহাড়ের চা বাগানগুলিতে মহিলা শ্রমিকদের জন্য টয়লেট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। এদিকে, উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৫ শতাংশ ছোট চা বাগান টি বোর্ডের অধীনে নথিভুক্ত হয়নি। শ্রমমন্ত্রীর কাছে এমন অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র চা বাগানের মালিকরা। পাশাপাশি তাঁরা চা বাগানে কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থা, ফসল বিমা চালু এবং ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাতা তুলতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

    পাহাড়ের চা শ্রমিকদের পুজো বোনাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। শ্রমিকরা এ ব্যাপারে বিভিন্ন বাগানের সামনে বিক্ষোভ দেখান। এমনকী, শ্রমিকদের একাংশ পাতা তোলাও বয়কট করেছিলেন। এই অবস্থায় বোনাস ইস্যু নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক ডাকে শ্রমদপ্তর। এদিন শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী, শ্রমদপ্তরের আধিকারিকরা এবং আটটি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। কিন্তু মালিকপক্ষ বৈঠকে হাজির ছিল না। তাই এদিনের মিটিংয়ে বোনাস ইস্যু নিয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। 

    প্রসঙ্গত, পাহাড়ের শ্রমিকরা ২০ শতাংশ বোনাদের দাবি তুলেছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের মধ্যস্ততায় মালিকাপক্ষ ১৬ শতাংশ বোনাস দিয়েছে। তাতে শ্রমিকদের একাংশ খুশি নন। যার ফলে গত পুজোর বোনাস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শ্রমদপ্তর সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এদিন বৈঠক হয়। বৈঠকে হাজির থাকতে পারবে না বলে বুধবার রাতে শ্রমদপ্তরকে জানিয়েছিল মালিকপক্ষ। তারা মিটিংয়ের জন্য আরএকটি তারিখ চেয়েছে। সিটু নেতা তথা সিপিএমমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, পাহাড়ের চা শ্রমিকদের বোনাস ইস্যু নিয়ে ছেলেখেলা চলছে। এখনও সরকার তা চূড়ান্ত করতে পারছেন না। অ্যাডিশনাল লেবার কমিশনার (উত্তরবঙ্গ) শ্যামল দত্ত বলেন, পাহাড়ের চা শ্রমিকদের বোনাস ইস্যু নিয়ে নতুন করে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে মিটিং সুষ্ঠুমতো হয়েছে। মহিলা টয়লেট তৈরি সহ শ্রমিক কল্যাণে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। দার্জিলিং ও কার্শিয়াং পাহাড়েই বাগানের সংখ্যা প্রায় ৭৭টি। বাগানগুলিতে মহিলা শ্রমিক বেশি। শ্রমদপ্তরের এক অফিসার বলেন, পাহাড়ে শীঘ্রই ২৬টি বাগানে টয়লেট তৈরির কাজ শুরু হবে। এদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফোরাম অব স্মল টি গ্রোওয়ার্সের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী, সংগঠনের  চেয়ারম্যান রজত রায় কার্জি প্রমুখ এদিন ক্ষুদ্র চা বাগানের উন্নয়নের দাবি মন্ত্রীর কাছে জানান। পরে সংগঠনের সভাপতি বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার ২৮৪.২০ হেক্টর জমিতে ছোট চা বাগান রয়েছে। উত্তরবঙ্গে মোট চা উৎপদনের ৬৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট বাগানগুলি থেকে হয়। তা হলেও ২৫ শতাংশ বাগান এখনও টি বোর্ডের নথিভুক্ত হয়নি। বিষয়টি মন্ত্রীকে দেখার আর্জি জানিয়েছি। এছাড়া সেচ ও বিমা চালু সহ একগুচ্ছ দাবি জানানো হয়েছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)