নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে রামনবমী তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দখলে’। বর্ধমান থেকে আউশগ্রাম সব জায়গাতেই শোভাযাত্রার প্রথম সারিতে থাকবেন শাসকদলের নেতা এবং কর্মীরা। রাম শুধু বিজেপির নয়। সেই বার্তাই দেবে তারা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নেতাদের ছবি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বড় গেট। বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। শাসকদল কোমর বেঁধে নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিজেপি। নিজেদের উদ্যোগে তারা কোথাও বড় কর্মসূচি নিতে পারছে না। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের হবে। পুজোতেও আমরা অংশগ্রহণ করব। বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, উৎসব সবার।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদনঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। আউশগ্রামের পাণ্ডুক হাটতলা থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। জেলার প্রথম সারির নেতাদের সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আউশগ্রামে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করতে বড় গেট তৈরি হয়েছে। সেখানে শাসকদলের নেতাদের ছবি রয়েছে। পাশে উড়ছে তৃণমূলের পতাকা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া, কালনা সহ সব জায়গাতেই শোভাযাত্রায় প্রথম সারিতে তৃণমূল নেতা এবং কর্মীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বর্ধমানের নীলপুর এলাকায় রামনবমীর শোভাযাত্রা বরাবরই বিজেপির দখলে থাকে। এবার সেখানেও দাপট দেখাবেন শাসকদলের নেতারা। ওই এলাকায় বিজেপির বেশকিছু নেতা-কর্মী শিবির বদল করেছেন। তাঁরা এবার শক্তি পরীক্ষায় নামছেন। বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা নেতা শ্যামল রায় বলেন, প্রতি বছরই আমরা শোভাযাত্রা করি। এবার এই শোভাযাত্রায় বিজেপির কেউ থাকবে না। তৃণমূলের সবস্তরের নেতা এবং কর্মী সেখানে থাকবেন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের কয়েকটি রামনবমী কমিটির সঙ্গে নেতৃত্ব যোগাযোগ করেছে। স্বস্তিপল্লি এলাকায় ধুমধাম করে বহু বছর ধরে রামনবমী পালন হয়ে আসছে। সেখানে বিজেপির কয়েকজন নেতা যেতে পারেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, হিন্দু আবেগকে দু’পক্ষই কাজে লাগাতে মরিয়া। বিজেপির সংগঠন দুর্বল হওয়ায় তাদের ইচ্ছে থাকলেও জেলাজুড়ে শোভাযাত্রায় তারা অংশগ্রহণ করতে পারছে না। নিজেদের উদ্যোগে কোথাও বড় শোভাযাত্রা করার ক্ষমতা তাদের নেই। বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, রামনবমী ধর্মীয় উৎসব। এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। শোভাযাত্রায় বহু বছর ধরে অংশগ্রহণ করি। এসব রাজনীতির স্বার্থে করি না। তৃণমূল সব কিছু নিয়েই রাজনীতি করতে চায়। এটা বাংলার মানুষ জানে। ওরা এতে বাড়তি সুবিধা পাবে না। বর্ধমানের আউশগ্রামে তৃণমূলের রামনবমীর প্রস্তুতি।-নিজস্ব চিত্র