নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মহকাশ গবেষণার কাজে বীরভূম জেলার সিউড়ি-১ ব্লকের চন্দ্রপুরের রাজ্যের একমাত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ওড়ানো হল বেলুন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে একঝাঁক বিদেশি বিজ্ঞানীর উপস্থিতিতে ট্রপোস্ফিয়ার থেকে সূর্যকণার নানা তথ্য সংগ্রহ করে প্রায় ২৫ মিনিটের মধ্যে বেলুনটি অন্যান্য যন্ত্রাংশ সহ ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। উৎফুল্ল ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’-এর বিজ্ঞানী সহ আধিকারিকরা। রাজ্যের বিজ্ঞানীদের কথায়, মহাকাশ গবেষণায় রকেট সায়েন্সের ব্যবহার খবচ সাপেক্ষ। কিন্তু ১ লাখের কম টাকাতেই বেলুনের সাহায্যে মহাকাশ গবেষণার কাজ করা সম্ভব। তাই আগামী দিনে রাজ্যের একমাত্র বেলুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যগো করতে চলেছে। ইতিমধ্যে বিদেশের বহু বিজ্ঞানী মউ স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের ডিরেক্টর সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে ইতিহাস তৈরি করল। দেশের দ্বিতীয় ও রাজ্যের প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সফলভাবেই বেলুন ওড়ানো হয়েছিল। এদিন মূলত ট্রপোস্ফিয়ার অবধি বেলুন পাঠানো হয়েছিল। প্রথম ধাপে এদিন মহাকাশের উদ্দেশ্যে গাইগার কাউন্টার পাঠানো হয়েছিল। সূর্য ভূপৃষ্ঠে কী ধরনের তেজষ্ক্রিয় কণা পাঠাচ্ছে তা এর দ্বারা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এতদিন সংস্থার নিজস্ব কোনও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ছিল না। মূলত বোলপুর থেকেই মহাকাশের পথে বেলুন ওড়ানো হতো। তবে সিউড়ি শহর লাগোয়া চন্দ্রপুরে ছ’ বিঘা জমিতে রাজ্যের প্রথম বেলুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যেই নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে। আগামী নভেম্বরেই সেখান থেকে ধাপে ধাপে ন’টি বেলুন মহাকাশে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ১০০ ফুটের বিশালাকার বেলুনটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থেকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে মহাকাশ গবেষণার জন্য তথ্য আহরণে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের কথায়, মহাকাশে পৌঁছনোর পর বেলুন ফেটে যায়। তবে ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো যন্ত্রাংশ ৩ ঘণ্টার বেশি সময় মহাকাশে থেকে নানা তথ্য সংগ্রহে সক্ষম। পরবর্তীতে কমান্ডের মাধ্যমে প্যারাশ্যুটের সাহায্যে যন্ত্রাংশগুলি ভূপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনা হয়। মহাকাশ গবেষণার মধ্যে অন্যতম বিষয় হল সূর্য। সূর্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের গবেষকরা কাজ শুরু করেছেন। মহাকাশে রকেট পাঠিয়ে সেই গবেষণা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। ফলে ইচ্ছা থাকলেও বহু বিজ্ঞানী মহাকাশ গবেষণায় নিযুক্ত হতে পারেন না। তবে বেলুনের সাহায্যেও সূর্য নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব। এছাড়াও পড়ুয়ারাও এর সাহায্যে মহাকাশ গবেষণায় অংশ নিতে পারবে। ইতিমধ্যে সংস্থার তরফে বেলুনের সাহায্য নিয়ে মহাকাশ গবেষণায় এক ডজনেরও বেশি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র