• নতুন সভাপতিকে নিয়ে তুমুল বিদ্রোহ বিজেপিতে
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নির্বাচন হয়েছে। তার ২৪ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের নেতাকর্মীরা। কেউ পোস্ট করছেন, ‘জেলা বিজেপিতে সার্কাস চলছে’। আবার কেউ লিখছেন, ‘কাছের মানুষকে বসান, মেদিনীপুরের বিজেপি সংগঠনের বারোটা বাজান।’ জেলা সভাপতির নাম ঘোষণার পর দলের জেলা অফিসও শুনসান থাকছে। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    জেলা বিজেপির নবনির্বাচিত সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডল অবশ্য বলেন, আমাদের দলের কেউ এরকম পোস্ট করছে না। তৃণমূল এসব করে দেখাতে চাইছে, আমাদের দলে অন্তর্কলহ রয়েছে। বিজেপি কর্মীরা একসঙ্গেই লড়াইয়ের ময়দানে থাকবেন। পদ্মের পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে মাসখানেক ধরে চর্চা চলছিল। মেদিনীপুর শহরের বেশ কিছু নেতার নাম উঠে আসছিল। কিন্তু সমস্ত সমীকরণ পাল্টে সভাপতির আসনে বসেছেন শমিতবাবু। তিনি বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট ছাড়া বিজেপির আর কোনও নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেনি। প্রথমে দিলীপবাবুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তাপস মিশ্রকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে তাপসবাবুর নেতৃত্বে বিজেপির ভরাডুবি হয়। সবচেয়ে লজ্জার হার হয় মেদিনীপুর পুরনির্বাচনে। সেই ভোটে খাতা খুলতে পারেনি গেরুয়া শিবির। এরপর সুদাম পণ্ডিতকে জেলা সভাপতি পদে বসানো হয়। তিনিও দিলীপ ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাঁর আমলে মেদিনীপুর লোকসভা আসন বিজেপির হাতছাড়া হয়। অভিযোগ, সেসময় দিলীপবাবুর ঘনিষ্ঠ নেতারা পূর্ব বর্ধমান জেলায় গিয়ে প্রচার করলেও মেদিনীপুরে সময় দেননি। ২০২৬সালের বিধানসভা ভোটের আগে ফের দিলীপ-ঘনিষ্ঠ এক নেতা বড় পদ পাওয়ায় দিলীপ-বিরোধী গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদ্ম নেতা বলেন, মেদিনীপুরের বিজেপি নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করছেন। সেই পোস্টে বহু কর্মী সমর্থন করছেন। দিলীপ-ঘনিষ্ঠ নেতা সভাপতি হওয়ায় অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনও ‘বাহুবলী’ নেতাকে পদে বসানো উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সভাপতির জনসংযোগ খুব কম। বহু মানুষ তাঁকে চেনেন না।

    এনিয়ে গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না জেলা তৃণমূলের নেতারা। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, গোষ্ঠীকোন্দল ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়েই ওই দলটা শেষ হচ্ছে। মানুষের জন্য কিছুই করছে না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর এরাজ্যে বিজেপি শেষ হয়ে যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)