শেখর চন্দ্র, আসানসোল: আলমারি লণ্ডভণ্ড। ঘরের মেঝেয় ভেসে যাচ্ছে রক্ত। তার মাঝে পড়ে নিথর দেহ। চিত্তরঞ্জন রেল কলোনির ঘর থেকে রেলকর্মীর স্ত্রীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। লুটপাটে বাধা পেয়ে খুন নাকি অন্য কিছু? ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত সঞ্চিতা চৌধুরী। বছর ছাপ্পান্নর সঞ্চিতা প্রদীপ চৌধুরীর স্ত্রী। প্রদীপ চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে ইঞ্জিন কারখানার কর্মী। চিত্তরঞ্জন রেল কলোনির ২৮ নম্বর স্ট্রিটে থাকতেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় কাজ সেরে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন প্রদীপ। আঁতকে ওঠেন। তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ামাত্রই এসিপি কুলটি, আরপিএফ-সহ বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, দেহ উদ্ধারের সময় রেলকর্মীর স্ত্রীর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ওই চিহ্ন দেখে পুলিশ মোটের উপর নিশ্চিত যে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে বধূকে খুন করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এদিন সন্ধেয় বাড়িতে একাই ছিলেন সঞ্চিতা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, লুটপাটের উদ্দেশে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবে এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত ঘটনার কিনারা এবং যে বা যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।