• গ্রামে বয়কট পুরোহিত! পরিবারকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত ঘিরে শোরগোল দাসপুরে
    এই সময় | ১৯ মে ২০২২
  • উলটপুরান পশ্চিম মেদিনীপুরের নাড়াজোল গ্রামে। গ্রামের এক মন্দিরের পুরোহিত ও তাঁর পরিবারকে বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের। পোস্টার পড়ল ওই পরিবারের বিরুদ্ধে। পোস্টারে লেখা, ওই পরিবারের সঙ্গে যাঁরা যোগাযোগ রাখবেন তাঁদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এমন ঘটনায় মঙ্গলবার চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) জেলার দাসপুর থানার নাড়াজোল গ্রাম পঞ্চায়েতের নাড়াজোল গ্রামে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এলাকার তারাশঙ্করী শীতলা মন্দির।

    কিন্তু বিরোধ কোথায়? গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে নাড়াজোল গ্রামের বাসিন্দা মোহিনীমোহন চক্রবর্তীর মন্দিরে পুজো ও সম্পত্তি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দীর্ঘ চার পুরুষ ধরে এই মন্দিরের পুজোর দায়িত্ব সামলে আসছে চক্রবর্তী পরিবার। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছু বছর আগে জমির খতিয়ানে মন্দির সহ জমিটি জনৈক গোপাল মাইতি নামে একজনের অধীনে চলে যায়। ভুলবশত ভূমি দফতরের খতিয়ানে এই জমির মালিকানা নাম পরিবর্তন হয়ে যায় বলে চক্রবর্তী পরিবারের অভিযোগ। চক্রবর্তী পরিবার মন্দির সংস্কারের কাজ করতে গেলে বাধে বিপত্তি। গ্রামের লোকজন এসে আপত্তি জানায় বলে অভিযোগ। মন্দির নিয়ে মামলা গিয়ে পৌঁছয় ঘাটাল কোর্টে (Ghatal Court)। মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় মন্দিরের কাজে আর হস্তক্ষেপ করতে পারছেন না ওই পরিবার। সম্প্রতি তাঁরা এই মামলাটি নিয়ে হাইকোর্টে (High court) আবেদন করে। এরপরেই গ্রামের কিছু মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় পোস্টার দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

    পুজো কমিটির তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে যদি মোহিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ রাখেন বা তাঁর বাড়ি যান তাহলে সেই ব্যক্তির পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। নাড়াজোল তারাশঙ্কর শীতলা মাতা কমিটির নামে ওই পোস্টারগুলি দেওয়া হয়।

    এই ফতোয় ঘিরেই গোটা এলাকায় পড়ে শোরগোল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দাসপুর থানার পুলিশ। আধুনিক যুগেও দাসপুরের মতো জায়গায় এমন পরিবারকে বয়কট? এলাকার সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। গ্রামের ওই মোড়লদের পাশাপাশি ওই পুরোহিতকেও আগামী ১৯ শে মে দাসপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে যাঁর নামে এই ফতোয়া সেই পুরোহিত মোহিনী মোহন চক্রবর্তীর ছেলে রাজীব চক্রবর্তী জানান, নাড়াজোলের রাজার আমল থেকেই তাঁদের পূর্বপুরুষ এমনকি তাঁর বাবাও ওই মন্দিরের পুজোর কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎই ২০০৯ সাল নাগাদ গ্রামবাসীদের সঙ্গে কিছু সমস্যার জেরে তাঁদেরকে আর পুজো করতে দেওয়া হয়নি। সেই মন্দির ও পুজোর কাজ ফিরে পেতেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
  • Link to this news (এই সময়)