• টক-ঝাল অনেক হয়েছে! স্বাদ বদল করতে এবার চেখে দেখুন রসগোল্লার চাট
    এই সময় | ১৯ মে ২০২২
  • মিষ্টি (Sweet) ছাড়া বাঙালির চলেই না। অনেকেরই শেষপাতে মিষ্টি না হলে খাওয়াটাই যেন ঠিক জমে না। আর কোনও অনুষ্ঠান হলে তো কিছু বলারই নেই। সেখানে মিষ্টি মাস্ট। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিষ্টিতেও এসেছে পরিবর্তন। ফলে সেই চিরাচরিত মিষ্টিকে নতুন ভাবে তুলে ধরতে অনেক ধরনের উপায় বাতলাচ্ছেন মিষ্টি প্রস্তুতকারীরা। মিষ্টিতেও এখন জায়গা করে নিয়েছে ফিউশন। সেই একঘেয়ে মিষ্টি থেকে তাই এখন ফিউশনকেই বেছে নিচ্ছেন বাঙালিরা। এমনকী, মিষ্টি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি বাংলা ধারাবাহিকও। সেখানও ফিউশন মিষ্টি তৈরি করার বিষয় দেখানো হয়েছে। ধারাবাহিকের পাশাপাশি এখন এই ধরনের মিষ্টি জায়গা করে নিচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দোকানে। আর এবার ফিউশন (Fusion) করে নতুন ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হল বর্ধমানে (Burdwan)।

    বাজারে এসেছে রসগোল্লার চাট!

    ইতিমধ্যেই বাজারে চলে এসেছে বিভিন্ন ধরনের রসগোল্লা। টক, ঝাল রসগোল্লা তো রয়েছেই। আর এবার মিষ্টি প্রিয় বাঙালির জন্য বাজারে চলে এল রসগোল্লার চাট। এই নতুন স্বাদের রসগোল্লা পাওয়া যাচ্ছে বর্ধমান শহরের রেল স্টেশনের কাছেই প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানে। এই নতুন ধরনের রসগোল্লা খাওয়ার জন্য অনেকেই ভিড় করছেন ওই দোকানে। আর এই চাটে টক,ঝাল ও মিষ্টি এই তিন স্বাদই পাওয়া যাবে। এই মিষ্টি নিয়ে ওই দোকানের কর্ণধার প্রমোদ কুমার সিং বলেন,"মুখের স্বাদ বদলাতে আমরা প্রায়ই রোজকার খাবারের স্বাদ পরিবর্তন করি। আসলে একই ধরনের খাবার রোজ ভালো লাগে না। আমরা যাঁরা মিষ্টি ব্যবসায়ী তাঁরাও চেষ্টা করি মাঝে মধ্যে গ্রাহকদের নতুন স্বাদের মিষ্টি খাওয়াতে। আর এই চিন্তা ভাবনা থেকেই রসগোল্লার চাট তৈরি করা হয়েছে। রসগোল্লাকে রেখেই তার সঙ্গে দই, কাঁচা লঙ্কা, ধনে পাতা ও কিছু মশলা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে রসগোল্লার চাট।" এই মিষ্টিও সবার মন জয় করে নেবে বলে আশা করছেন দোকান মালিক।

    কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই মিষ্টি?

    বর্ধমানের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী প্রমোদকুমার সিং এই 'ফিউশন' মিষ্টিটি নিয়ে এসেছেন। রসগোল্লার এই চাট তৈরি করার জন্য প্রথমে তা থেক রসটা বের করে নিতে হবে। তারপর ওই রস বের করা ওই রসগোল্লার সঙ্গে দই সহযোগে চাট মশলা মেশাতে হবে। রসগোল্লাকেই তার মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর 'টপিংস' হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কা কুচি ও ঝুড়ি ভাজা। আর যাঁরা আরও ঝাল পছন্দ করেন তাঁদের জন্য উপরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হালকা গুঁড়ো লঙ্কাও। এটি পরিবেশন করা হচ্ছে কাপের মধ্যে। চামচে করে এই মিষ্টি মুখে তুললেই টক, ঝাল ও মিস্টির স্বাদ মিলছে।

    রসগোল্লার এই নয়া স্বাদে বিভোর হয়েছেন অনেকে। আপাতত দুই রকম কাপে এই চাট রসগোল্লা বিক্রি করছেন তাঁরা। ছোট ও বড় বিভিন্ন মাপের কাপ রাখা হয়েছে এই মিষ্টির জন্য। ছোট কাপে ছোট মাপের রসগোল্লা দিয়ে চাট বানানো হচ্ছে। তার দাম রাখা হয়েছে ১৫ টাকা। বড় রসগোল্লা দিয়ে তৈরি চাটের দাম রাখা হয়েছে ৩০ টাকা। প্রমোদকুমারবাবু বলেন, "চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে আমরা ক্রেতাদের নতুন নতুন স্বাদের মিষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করি। চাট রসগোল্লাও সেই রকমই একটা প্রয়াস। ক্রেতাদের কাছে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে এই ফিউশন মিষ্টি।"
  • Link to this news (এই সময়)