• দাড়ি দিয়ে যায় চেনা! রেকর্ড ভাঙাই এখন লক্ষ্য জবিরুলের
    এই সময় | ১৯ মে ২০২২
  • 'এক ছিল দাঁড়ি মাঝি, দাড়ি তার মস্ত...'। সুকুমার রায়ের (Sukumar Ray) কবিতায় এহেন মস্ত দাড়ির (Beard) উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল। আর বাস্তবে এমন দাড়ির দেখা মিলল ভগবানগোলার ফতেপুরের ফকির মহম্মদ জবিরুল শেখের মুখে। দাড়ি তাঁর কাছে খুব প্রিয়। তাঁর মুখে রয়েছে মস্ত দাড়ি। আর এই দাড়ি দিয়েই তাঁকে চিনতে পারা যায়। অবশ্য দাড়ি দিয়ে তাঁকে চেনা গেলেও তিনি পেশায় একজন টো টো চালক। দাড়িই তাঁর সাধ, দাড়িই তাঁর কাছে সাধনার বিষয়। দাড়িই তাঁর কাছে সব কিছু। দাড়ির জন্য সাতপাকেও বাঁধা পড়েননি। আর যতদিন যাচ্ছে বেড়েই চলেছে তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য। পাঁচ ফুটের জবিরুলের দাড়ির দৈর্ঘ্য এখন আট ফুটের বেশি। তবে এখনই থামতে চান না তিনি। লক্ষ্য গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে (Guinness World Records) নাম তোলা। লক্ষ্য নতুন রেকর্ড (Record) গড়া।

    বছর ৫৮-র জবিরুলবের সংসার বলতে মা ও এক ভাই। টো টো চালিয়েই কোনও রকমে সংসার চলে। আগে অবশ্য তিনি অন্যের লরি চালাতেন। পরে ঠিক করেছিলেন যে নিজের কিছু করবেন। তখনই ঋণ নিয়ে একটি লরি কেনেন। কিন্তু, তা বেশিদিন রাখতে পারেননি। তা নিয়ে পরিবারে অশান্তি লেগেই ছিল। তাই পারিবারিক কারণে তা বিক্রি করে দিতে হয়। তারপর নতুন করে জীবন শুরু করেন তিনি। শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তবে সংসারের টানাটানি লেগেই ছিল। কিন্তু, তা বলে সাধের দাড়ির কথা তিনি ভুলে যাননি। পরিবারে যতই সমস্যা হোক না কেন নিজের দাড়ির পরিচর্যা করে গিয়েছেন তিনি। সময় পেলেই লক্ষ্য রাখেন সাধের দাড়ির। কারণ দাড়িই তাঁর কাছে সবকিছু।

    দাড়ি ছাড়া তিনি কিছুই ভাবতে পারেন না। দাড়ির জন্য করেননি বিয়েও। চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, সাধের দাড়িকে আরও বড় করে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে নাম তোলা। অবশ্য সেই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেকটাই দূরে রয়েছেন তিনি। এই খেতাব এখন রয়েছে রাজস্থানের বিকেনারের গীরিধর ভায়াসের দখলে। ২০১৮ সালে যিনি সবচেয়ে বড় দাড়িওয়ালার খেতাব পান। এবার এই শিরোপা পাওয়ার লক্ষ্যেই সাধের দাড়ি নিয়ে সাধনা করে চলেছেন জবিরুল। সেই কারণে ২২ বছর ধরে দাড়ি পর্যন্ত তিনি কাটেননি। এখন জবিরুলের এই লক্ষ্য কবে পূরণ হয় এখন সেটাই দেখার বিষয়।
  • Link to this news (এই সময়)