• Malda: বিধায়কের বেফাঁস মন্তব্যের প্রতিবাদে পথ অবরোধ রতুয়ায়, ক্ষমা চাওয়ার দাবি গ্রামবাসীদের
    এই সময় | ১৯ মে ২০২২
  • বিধায়কের বেফাঁস মন্তব্যের প্রতিবাদে একজোট হয়ে পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে রতুয়া-১ ব্লকের দুর্গাপুর এলাকায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে এক গ্রামবাসী বিধায়ককে ফোন করলে, তিনি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন৷ সেই ফোনের অডিয়ো রেকর্ডিংও করে রাখেন গ্রামবাসী প্রশান্ত মণ্ডল৷ যদিও এই অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় ডিজিটাল৷ তবে বিধায়কের বেফাঁস মন্তব্যের প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেন এলাকাবাসী৷ অবিলম্বে বিধায়ককে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান তাঁরা৷ এর ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় রতুয়া ভালুকা রাজ্য সড়কে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রতুয়া থানার পুলিশ। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসীরা। তবে বিধায়কের এই মন্তব্যে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে, তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রতুয়া-১ ব্লকের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাণীকান্তটোলা গ্রামের বাসিন্দারা দুর্গাপুর স্ট্যান্ডে রতুয়া-ভালুকা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাণীকান্তটোলা গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তা পাকা করা হচ্ছে না। সেখানে প্রায় সারা বছরই জল জমে থাকে এবং কাদা হয়ে থাকে৷ সেই রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে, তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের কথোপকথনের অডিয়ো রেকর্ডিং রয়েছে। যদিও এই সময় ডিজিটাল অডিয়োর সত্যতা যাচাই না করলেও, গ্রামের বাসিন্দারা বিধায়ককে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে রতুয়া থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়৷ পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ আলোচনার পর পথ অবরোধ উঠে যায়।

    অভিযোগকারী প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘রাস্তার জন্য আমি বিধায়ককে ফোন করেছিলাম৷ বিধায়ক ফোনে গালিগালাজ করছেন৷ হুমকিও দিচ্ছেন৷’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিধায়ক সমর মুখার্জি বলেছেন, বেশি কথা বললে একেবারে প্রাণে মেরে ফেলব৷ এর রেকর্ডিংও রয়েছে৷’’ তাঁর দাবি, ‘‘আমরা চাইছি, রাস্তাটা পাকা হোক৷ আর সমর মুখার্জি আমাদের কাছে ক্ষমা চান৷’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমরা ভোট দিয়ে ওঁকে বিধানসভায় পাঠিয়েছি, সেটা কি গালিগালাজ শুনব বলে?’’

    দক্ষিণ মালদার BJP সভাপতি পার্থসারথি ঘোষ এব্যাপারে শাসকদলকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘উনি আগে কংগ্রেসে ছিলেন৷ তখন হয়তো তাঁর কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ পাওয়া যায়নি৷ তৃণমূলের বিধায়ক বলেই এটা হয়েছে৷ কারণ তৃণমূল দলটা গণতন্ত্রে আস্থাশীল নয়৷ এরা যেনতেন প্রকারে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে টিকে থাকবে৷ এদের ঔদ্ধত্য থাকাটা স্বাভাবিক৷’’ একই সুর শোনা গেল রতুয়া ১ ব্লকের CPIM এর সম্পাদক নজরুল ইসলামের গলায়৷ তিনি বলেন, ‘‘যে দলে গিয়েছেন, সেখানে এই ধরনের মন্তব্য অস্বাভাবিক কিছু নয়৷ সমর মুখার্জি একসময় জোটপ্রার্থী ছিলেন৷ তখন তাঁর ভাষা আলাদা ছিল৷ কিন্তু সেই লোকই যখন একটা স্বৈরাচারী দলে যান, তাতে উনিও পাল্টে গিয়েছেন৷ দলের নেত্রী যেখানে হুমিক দেওয়া, কোনও অভিযোগ না শোনা, অভিযোগ করলে মিথ্যে মামলা করা, সেখানে গিয়ে সমর মুখার্জিও ওই রকম হয়ে গিয়েছেন৷ একজন জনপ্রতিনিধির থেকে এটা আশা করা যায় না৷ আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি৷’’
  • Link to this news (এই সময়)