ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে স্মার্ট ফোন! তার আগেই ওঁত পেতে বড় ছক বানচাল করল পুলিশ...
আজকাল | ২৩ মে ২০২৫
শ্রেয়সী পাল: সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের সবথেকে বড় মোবাইল ফোন চুরি চক্রের পর্দা ফাঁস করল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত সুতি থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুতি থানার পুলিশ চাঁদের মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে দুই যুবককে ৯০টি বিভিন্ন দামি সংস্থার মোবাইল ফোন-সহ গ্রেপ্তার করে। ধৃত যুবকদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে শুক্রবার তাদের জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত দু'জনের নাম বাবর হোসেন এবং আনিকুল ইসলাম। এদের বাড়ি মালদা জেলার কালিয়াচক থানা এলাকায়। ধৃতদের হেফাজত থেকে ৯০টি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস স্মার্টফোন উদ্ধার হয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুতি থানার পুলিশ ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর চাঁদের মোড় এলাকায় একটি বাস আটকে তল্লাশি শুরু করে। সেই সময় চোরাই মোবাইল ফোন ভর্তি একটি ব্যাগ পুলিশের নজরে আসে। ব্যাগটির দুই মালিককে মোবাইল ফোনগুলোর বৈধ নথি দেখাতে বললেও তারা পুলিশকে কোনও কিছুই দেখাতে পারেননি।
সুতি থানার এক আধিকারিক বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মোবাইল ফোনগুলো চুরি করা হয়েছে। মোবাইল ফোন চুরির চক্রের কয়েকজন পান্ডার কাছ থেকে সেগুলি নিয়ে ধৃত দুই ব্যক্তি মালদা ফিরে যাচ্ছিল।" পুলিশের অনুমান মোবাইল ফোন চুরির চক্রের এই সদস্যরা আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে এই মোবাইল ফোনগুলি বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল।
ভারতীয় আইএমইআই নম্বর যুক্ত মোবাইল ফোনগুলি একবার বাংলাদেশে পৌঁছে গেলে পুলিশের পক্ষে তা উদ্ধার করা একপ্রকার অসম্ভব। মালদা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারহীন কোনও এলাকা দিয়ে আগামী দু-একদিনের মধ্যে ফোনগুলি বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল বলে সূত্রের খবর।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ধৃত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে যে মোবাইল ফোনগুলি উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে বেশ কয়েকটির লক তারা খুলতে পারেনি। মোবাইল ফোনগুলি হঠাৎ করে কোনও কারণে বেজে উঠে যাতে সমস্যা সৃষ্টি না করে সেই কারণে বেশ কিছু মোবাইল ফোনকে আলাদা করে সেলোটেপ এবং প্লাস্টিক দিয়ে বিশেষভাবে মুড়ে রাখা হয়েছিল।