• বড় শিল্পপতিদের ঘাড়ে চাপল 'সুপার ট্যাক্স'! ভাঁড়ার ভরতে ভারতকে অনুকরণ পাকিস্তানের
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২২
  • অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে কড়া পদক্ষেপ নিল পাক সরকার (Pakistan Govt)। বৃহৎ শিল্পপতিদের ঘাড়ে চাপানো হল ‘সুপার ট্যাক্স’ (Pakistan Imposed Super Tax)। বৃহৎ শিল্পগুলোকে দিতে হবে এই ১০ শতাংশ ‘সুপার ট্যাক্স’। পাক সংসদে এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল।

    বড়শিল্পের উপর ১০ শতাংশ ‘সুপার ট্যাক্স’ বসানোর সিদ্ধান্ত শুক্রবারই ঘোযণা করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Pakistan PM Shehbaz Sharif)। মুদ্রাস্ফিতি মোকাবিলা করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ বলেন শাহবাজ শরিফ। দেশকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এটাই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে মনে করছেন তিনি। এই করের আওতায় পড়তে চলেছে সিমেন্ট, ইস্পাত, চিনি, তেল-গ্যাস, সার, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, ব্যাঙ্ক, গাড়ি, সিগারেটের মতো বৃহৎ সংস্থাগুলি।

    বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি দেশের উচ্চবিত্তদের জন্যও নতুন কর কাঠামোর কথা ঘোষণা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এই করের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দারিদ্র বিমোচন কর।' বার্ষিক আয় ১৫ কোটির বেশি হলে ১ শতাংশ বেশি কর দিতে হবে। ৩০ কোটির বেশি হলে দিতে হবে চার শতাংশ অতিরিক্ত কর।

    পাকিস্তান সংসদে কর সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন পাক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল। ইমরান খান (Imran Khan) জমানায় বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্যই এই নতুন কর ব্যবস্থা। দেশকে রক্ষার জন্যই জোট সরকার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঋণে জর্জরিত পাকিস্তান। দেশকে অ্রর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে অর্থনৈতিক সংস্থাগুলিকে। নতুন করে ঋণ পেতে সরকারি ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি কমানোর পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ (IMF)। আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থার পরামর্শ মতো ইতিমধ্যে সরকারি ব্যয় সংকোচের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামবাদ। এবার বাজেট ঘাটতি কমাতে কর ব্যবস্থার সংস্কারের পথে হাঁটল শাহবাজ শরিফ সরকার। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ায়, ঋণ পেতে সুবিধা হবে ইসলামাবাদের, এমটাও মনে করছে কেউ কেউ।

    পাক অর্থনীতিতে নতুন কর কাঠামো ঘোষণার পরপরই ব্যাপক পতন ঘটে শেয়ার বাজারে। পাক শেয়ার বাজারে সূচক নেমে যায় পাঁচ শতাংশের নীচে। প্রধানমন্ত্রীর নতুন আয়কর নীতির ঘোষণার ফলেই শেয়ারবাজারে এই ধস বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। সরকারের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে বলেই মনে করছেন তারা।

    "দেশভাগের জন্য দায়ী নেহরু!" সাংবাদিকের বইতে কাঠগড়ায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমানে বেহাল অর্থনীতির জেরে জেরবার পাকিস্তান। জ্বালানির খরচ কমাতে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। বেহাল অর্থনীতির রেশ পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। কাগজের অভাবে মুদ্রণ বন্ধের সিদ্ধান্তে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ুয়ারা। এই অবস্থায় কর কঠামো পরিবর্তন করে, শাহবাজ সরকার অর্থনীতিকে চাঙা করতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার।
  • Link to this news (এই সময়)