• হিমালয়ের অন্যতম দুর্গম শৃঙ্গ জয় করে ঘরে ফিরলেন চুঁচুড়ার যুবক
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২২
  • লক্ষ্য পূরণ! হিমালয়ের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ ইন্দ্রাসন (Indrasan Peak) ও দেও টিব্বা (Deo Tibba) জয় করে ঘরে ফিরলেন চুঁচুড়ার (Chinchurah) যুবক দেবাশিস মজুমদার (Debashish Majumdar)। সোনারপুর থেকে যে ১১ জনের দল ইন্দ্রাসন জয় করতে গিয়েছিলেন, তাঁদেরই অন্যতম সদস্য ছিলেন হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা দেবাশিস। পেশায় সাঁতার প্রশিক্ষক হলেও পর্বতারোহণ তাঁর নেশা। আর সেই নেশার জোরেই একেবারে পৌঁছে গেলেন IMF অর্থাৎ ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফেডারেশনের মতে বিশ্বের অন্যতম টেকনিকাল পিক হল ইন্দ্রাসনে। এবার তাঁর লক্ষ্য বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, মাউন্ট এভারেস্ট। ২০২৫ সালে এভারেস্ট জয় করার লক্ষ্য নিয়েছেন চুঁচুড়া সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক দেবাশিস মজুমদার।

    আজ, ২৫ জুন সকালেই ৬,২২১ মিটার মাউন্ট ইন্দ্রাসন (Indrasan Peak) এবং ৬,০০১ মিটার উচ্চতার মাউন্ট দেও টিব্বা জয় করে বাড়িতে ফিরেছেন চুঁচুড়ার দেবাশিস মজুমদার। বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবাশিস বলেন, "খুব টেকনিক্যাল পিক হল ইন্দ্রাসন (Indrasan Peak) । বিপজ্জনকও বটে। প্রতি পদে বিপদ নিয়ে বরফ কেটে এগিয়ে যেতে হয়। তার উপর খারাপ আবহাওয়া।" তাঁদের যাত্রাপথও খুব একটা সুগম ছিল না। দেবাশিস বলেন, "তিনদিন ক্যাম্প-৩-এ বসে থাকতে হয়েছে তুষারঝড়ের জন্য। একসময় মনে হচ্ছিল আর উঠতে পারব না। তবে আমরা হাল ছাড়িনি।"

    এভারেস্ট (Everest), কাঞ্চনজঙ্ঘা সহ ৭টি শৃঙ্গ জয়ী রুদ্রপ্রসাদ হালদারের নেতৃত্বে ইন্দ্রাসন (Indrasan Peak) জয়ের লক্ষ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন দেবাশিস মজুমদার সহ সোনারপুরের বাঙালি যুবকেরা। তবে সকলে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেননি। ১১ জনের মধ্যে ৬ জন সামিট করে গত ১৫ জুন পীর পাঞ্জাল হিমালয়ের সবচেয়ে কঠিন শৃঙ্গ ইন্দ্রাসন জয় করেন। বাকিরা খারাপ আবহাওয়ার জন্য সামিট না করেই ফিরে আসেন। এরপর ক্যাম্প-২-এ ফিরে ১৭ জুন সামিট করেন দেও টিব্বা (Deo Tibba) । অবশেষে আজ সকালে বাড়ি ফেরেন অভিযাত্রী দলের সদস্যরা।

    সাঁতার প্রশিক্ষক দেবাশিস মজুমদারেরও পীর পাঞ্জাল হিমালয়ের সবচেয়ে কঠিন শৃঙ্গ ইন্দ্রাসন জয় করা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা ছিল। তবে পেশায় সাঁতার প্রশিক্ষক হলেও ২০১৫ সাল থেকে পাহাড়ে চড়ার নেশা তাঁর। পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু হয় তাঁর পাহাড় চড়া। এর আগে বিসি রায় ও নন্দা, ঘুমটি শৃঙ্গ জয় করেছেন বলে জানান দেবাশিস। এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা ৭টি শৃঙ্গ জয়ী রুদ্রপ্রসাদ হালদারের নেতৃত্বে ইন্দ্রাসন জয়ের লক্ষ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন দেবাশিস মজুমদার সহ সোনারপুরের বাঙালি যুবকেরা। গত ২৮ মে কালকা মেলে চড়ে ইন্দ্রাসন (Indrasan Peak) জয়ের লক্ষ্যে রওনা দেন তাঁরা। ইন্দ্রাচল জয়ের স্বপ্ন যাতে কোনভাবে ব্যর্থ না হয়, সেজন্য গত কয়েকমাস ধরে প্রস্তুতি নিয়ে, শারীরিক কসরত করেছিলেন দেবাশিস মজুমদার সহ সোনারপুরের বাঙালি পর্বতারোহীরা।

    Plastic Ban: রাজ্যজুড়ে নিষিদ্ধ হচ্ছে প্লাস্টিক দ্রব্য, তালিকায় কী কী আছে? জানুন

    উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই চন্দননগরের মেয়ে পিয়ালী বসাক (Piyali এভারেস্ট (Everest) জয় করে বাড়ি ফিরেছেন। এবার আরেক শৃঙ্গ জয় করে ঘরে ফিরলেন হুগলিরই আরেক যুবক। এপ্রসঙ্গে দেবাশিস বলেন, এভারেস্ট জয় প্রত্যেক পর্বতারোহীর স্বপ্ন। তাই এরপর তাঁর লক্ষ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা ও এভারেস্ট জয় করা।
  • Link to this news (এই সময়)