• মন্ত্রিকন্যার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়ী ববিতা, মেয়ের জয়ে কী বার্তা মায়ের?
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২২
  • রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিলিগুড়ির ববিতা সরকার। রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম মামলায় জয় পেয়েছেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি দিতে হবে ববিতাকে। একইসঙ্গে অঙ্কিতার চাকরিতে যোগদান করার পর বেতন বাবদ প্রাপ্ত ফেরত দেওয়া অর্থও ববিতা সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মেয়ের এই জয়ে আপ্লুত ববিতার মা , দাদা সহ গোটা পরিবার। পরিবারের উৎসবের মেজাজ। শুক্রবার আদালত এই রায় দেওয়ার পরেই ববিতার মা ক্ষনা লাহা সরকার বলেন, “আমার গোটা পরিবার অত্যন্ত খুশি। আনন্দে চোখে জল আসছে। মেয়ে আইনি লড়াই চালিয়েছে দীর্ঘদিন। এখন নিয়োগপত্র হাতে পেলেই শান্তি পাব।” খুশি ববিতার দাদা নিহার সরকারও। তিনি বলেন, “ দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই লড়ে গিয়েছে বোন। ওর এই জয়ে অত্যন্ত খুশি। বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আরও দৃঢ় ছিল।”

    গত কয়েক বছর ধরেই SSC চাকরির জন্য আইনি যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির কন্যা। দমে যাননি। আর তারই ফসল হিসেবে সুবিচার প্রাপ্তি ববিতার, জানাল পরিবার। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর SSC পরীক্ষা দিয়েছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা ববিতা সরকার। এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল ২৭ নভেম্বর। তাঁর নাম ছিল ওয়েটিং লিস্টে। প্যানল লিস্টে নাম থাকা প্রার্থীদের চাকরির পর সাধারণত নাম আসে ওয়েটিং লিস্টে নাম থাকা প্রার্থীদের।

    কিন্তু, সেকেন্ড কাউন্সেলিংয়ের পর তাঁর নাম ২১-এ চলে যায়। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭৭। অন্যদিকে, মন্ত্রিকন্যা পেয়েছিলেন ৬১। সেই অঙ্কিতাই তালিয়ায় ছিল শীর্ষে। কীভাবে তা সম্ভব? এই বিষয়ে অভিযোগ তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ববিতা। SSC-র নিয়োগে অনিয়মের মামলায় আগেই অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাঁর বেতনবাবদ প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। শুক্রবার এই মামলায় অপর একটি উল্লেখযোগ্য রায় দেয় আদালত। অঙ্কিতার জায়গায় অবিলম্বে ববিতাকে নিয়োগ করতে হবে এবং অঙ্কিতার ফিরিয়ে দেওয়া বেতনের অর্থ তুলে দিতে হবে ববিতার হাতে, নির্দেশ দেওয়া হয় এমনটাই। আর এরপরেই রীতিমতো খুশির হাওয়া বইছে ববিতার পরিবারে।
  • Link to this news (এই সময়)