• আঁচল জুড়ে মা ভবতারিণী, বিদেশে পাড়ি কাটোয়ার বিশেষ জামদানির
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২২
  • বিভিন্ন ধরনের জামদানি শাড়ি (Jamdani Saree) রয়েছে বাজারে। আর সেই শাড়ির উপর হাতে করে নানা নকশা ফুটিয়ে তুলে তা আকর্ষণীয় করে তোলার রেওয়াজ রয়েছে সেই বহু যুগ আগে থেকেই। আর সেভাবেই শাড়ির উপর গুরুত্ব পেয়েছে গ্রাম বাংলার (Bangla) নানা কাহিনী ও নানা ঐতিহ্য। তার জেরে জামদানির আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। আর এবার মসলিন জামদানি শাড়ির উপর দেশের বিভিন্ন তীর্থস্থানের (Pilgrimage) নকশা ফুটিয়ে তুলছেন তাঁতশিল্পীরা (Weavers)। আর কাটোয়ার (Katwa) তাঁতশিল্পীদের হাত ধরে সেই শাড়ি পাড়ি দিচ্ছে বিদেশের বাজারে। দেশের সংস্কৃতি যাতে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জানা গিয়েছে, কাটোয়া ২ ব্লকের জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের ঘোড়ানাশ, মুস্থলী গ্রামে বহু বছর ধরেই বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। বহু বছর ধরে তাঁদের হাত ধরেই বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তাঁত। আর এবার কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের তাঁতশিল্পীরা মসলিন জামদানি শাড়ির উপর দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিনীর মূর্তি ও মন্দির ফুটিয়ে তুলেছেন। এবার সেই শাড়ি পাড়ি দিল দুবাইতে। আসলে সেখানে থাকা প্রবাসী বাঙালিরাই এই শাড়ি তৈরির জন্য বরাত দিয়েছিলেন। তার জেরেই শাড়ির উপর দক্ষিণেশ্বরের মন্দির ফুটিয়ো তোলেন তাঁতিরা। তারপর তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দুবাইতে। তবে শুধুমাত্র তাই না, এবার দেশের বাকি তীর্থস্থানের ছবিও শাড়ির উপর ফুটিয়ে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। দেশের সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এই প্রয়াস।

    কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের তাঁতশিল্পী জহরলাল গুঁইন, যাদবেন্দ্র সুন্দর দাস, বরুণ পাল বলেন, "জামদানি শাড়ির উপর এখন আমরা দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণীর মূর্তি ও মন্দির ফুটিয়ে তুলেছি। এটা দুবাইতে পাঠানো হল। এরপর দেশের বড় বড় তীর্থস্থানগুলিকে আমরা জামদানির উপর বুনে ফুটিয়ে তুলব। যাতে করে দেশের ঐতিহ্যকে বিদেশে তুলে ধরা যায়।"

    ১৭০০ খ্রীস্টাব্দে জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। তাছাড়া মুঘল আমলেও জামদানির প্রচলন ছিল। পরে ধীরে ধীরে সেই জামদানি হারিয়ে গেলেও ফের বাংলার তাঁত শিল্পীদের হাত ধরে তা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসার পর জামদানি বুনতে শুরু করেন অনেক শিল্পী। তবে একটা জামদানি শাড়ি বুনতে তাঁতিদের সময় লাগছে প্রায় তিনমাস। তাই মোটা দামে বিকোচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এভাবেই কার্যত সুদিন ফিরছে বাংলার তাঁতিদের।
  • Link to this news (এই সময়)