• সব চেষ্টা ব্যর্থ, হাসপাতালের কার্নিশ থেকে ঝাঁপ দেওয়া সেই যুবকের মৃত্যু
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • শেষরক্ষা হল না! কার্নিশ থেকে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করলেও বাঁচানো গেল না সুজিত অধিকারীকে (Sujit Adhikari)। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ITU-তে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সুজিত অধিকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। বহু চেষ্টা করেও তাঁকে কোনভাবে বাঁচানো সম্ভব হল না বলে জানিয়েছেন ওই বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। গোটা ঘটনায় যেমন প্রশ্ন উঠেছে সুজিত অধিকারীর (Sujit Adhikari) মানসিক স্থিতাবস্থা নিয়ে, তেমনই মল্লিক বাজারের ওই বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    জানা গিয়েছে, মাত্র কয়েকদিন আগেই স্ত্রীকে হারিয়েছেন সুজিত অধিকারী (Sujit Adhikari)। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্ত্রীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সকলের সঙ্গে কথাবার্তা কমিয়ে দিয়েছিলেন সুজিত। এর মধ্যে আচমকা একদিন মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ায় তাঁকে মল্লিক বাজারের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    তারপর এদিন ওই হাসপাতালেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। একেবারে হাসপাতালের আটতলার জানলা থেকে বেরিয়ে কার্নিশ থেকে নীতে ঝাঁপ দেন সুজিত অধিকারী। যদিও সুজিত অধিকারীকে কার্নিশে বসে থাকতে দেখেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দমকলে খবর দেন। দমকল বাহিনীও আসে। কিন্তু দমকল বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করার আগেই সকলের সমক্ষে কার্নিশ থেকে ঝাঁপ দেন সুজিত অধিকারী।

    গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যে হস্তক্ষেপ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতার (INK) থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল? কী ভাবে ওই রোগী কার্নিশে উঠে গেলেন? কী ভাবেই বা সকলের উপস্থিতিতে ঝাঁপ দিলেন তিনি? ঘটনায় গাফিলতি কার? সব নিয়ে ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেস অফ কলকাতার (INK)-এর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Dept)।

    দীর্ঘ চেষ্টা ব্যর্থ, কার্নিশ থেকে ঝাঁপ সেই রোগীর

    যদিও সুজিত অধিকারীকে কার্নিশ থেকে নামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের (Institute Of Neuro Sciences) চিকিৎসক ডা. অভীক রায়চৌধুরী, CEO চিকিৎসক ডা. জয়িতা বসু এবং অতিরিক্ত CEO অর্পিতা মণ্ডল। তাঁরা বলেন, "কর্তৃপক্ষের তরফে ওই রোগীকে নামিয়ে আনার চেষ্টায় কোনও খামতি ছিল না। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁকে নীচে নামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বারবার ওই রোগী ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এরপর আচমকাই সেখান থেকে ঝাঁপ দেন তিনি।" কিন্তু জানালা থেকে এক রোগী কী ভাবে বেরিয়ে এলেন এবং সেটা কারওর চোখে পড়ল না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
  • Link to this news (এই সময়)