• Patient Jumps From Hospital: হাসপাতালের কার্নিশ থেকে ঝাঁপ রোগীর, রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্য দফতরের
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • কলকাতার মল্লিকবাজারের হাসপাতাল (Kolkata Mullickbazar Hospital) থেকে রোগী ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় এবার রিপোর্ট তলব রাজ্যের। শনিবার দুপুরে ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস (Institute Of Neurosciences) কলকাতা হাসপাতালের আটতলার কার্নিশে উঠে পড়েন এক রোগী। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করা হলেও তাঁকে নামিয়ে আনতে কালঘাম ছুটে যায় পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের সামনেই মরণঝাঁপ দেয় সে। এই মুহূর্তে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। দেওয়া হয়েছে ভেন্টিলেশনে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    গোটা ঘটনায় এবার হস্তক্ষেপ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। জানা গিয়েছে, ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতার (INK) থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল? কী ভাবে ওই রোগী কার্নিশে উঠে গেলেন? কী ভাবেই বা সকলের উপস্থিতিতে ঝাঁপ দিলেন তিনি? ঘটনায় গাফিলতি কার? সব নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Dept)।

    এই নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের পক্ষ থেকে চিকিৎসক ডা. অভীক রায়চৌধুরী, CEO চিকিৎসক ডা. জয়িতা বসু এবং অতিরিক্ত CEO অর্পিতা মণ্ডল বলেন, "কর্তৃপক্ষের তরফে ওই রোগীকে নামিয়ে আনার চেষ্টায় কোনও খামতি ছিল না। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁকে নীচে নামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বারবার ওই রোগী ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এরপর আচমকাই সেখান থেকে ঝাঁপ দেন তিনি।"

    জানা গিয়েছে, ৩৩ বছরের ওই রোগীর নাম সুজিত অধিকারী। লেকটাউনের বাসিন্দা এই ব্যক্তি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেই অনুমান চিকিৎসকদের। গত তিনদিন ধরে তিনি ওই হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন সুজিত। শনিবারই তাঁর ছুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তাঁর আগেই সুজিতের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। নার্সিং কর্মীরা জানান, সকালে জানলা খুলে বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন ওই ব্যক্তি। কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাদের হাতে কামড়ে দেন। জানা গিয়েছে, ২২ দিন আগেই তাঁর স্ত্রী বিয়োগ ঘটে। এরপর থেকেই কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি? চিকিৎসকদের অনুমান তেমনটাই।

    এদিকে, হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। মাত্রাতিরিক্ত হাসপাতালের খরচও ভাবিয়ে তুলেছিল সুজিত অধিকারীকে। সেই থেকেই চরম হতাশায় এই কাণ্ড বাধান বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব তলব করল রাজ্য।
  • Link to this news (এই সময়)