• Dilip Ghosh: ''পরম্পরা অনুযায়ী দ্রৌপদী মুর্মু বিরোধীদের ফোন করেছেন'', দাবি দিলীপের
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে জেতানোর জন্য পরম্পরা অনুযায়ীই বিরোধীদের ফোন করছেন বলে দাবি করেন BJP-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷ শনিবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সোনিয়া গান্ধীকে ফোন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘একটা পরম্পরাই আছে, যিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাঁড়ান, সবাই চান সর্বসম্মতিতে হোক রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচন৷ তিনি NDA সবচেয়ে বড় জোটের প্রার্থী, স্বাভাবিকভাবেই তিনি সবার কাছে আবেদন করছেন৷ হয়তো অন্য রাজ্যেও যেতে পারেন প্রচার করতে৷ সে কাজ উনি করেছেন, বাকি যাঁরা আছেন অন্য পার্টির, তারা বিচার বিবেচনা করবেন।’’

    আসানসোলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ ভরানো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘এইভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে তারা লোককে নিয়ে আসে৷ তৃণমূলের মিটিং মিছিলে এখন যারা আসে কর্মী-সমর্থক কেউ আসে না, যারা সিন্ডিকেট চালায়, মিড ডে মিলের কাজ করে, ১০০ দিনের কাজ করে সেই লোকেরাই গাড়ি ভর্তি করে আসে প্যাকেট নিয়ে চলে যায়৷ এটাই তৃণমূল দল, যেখানে কর্মী বা রাজনৈতিক কর্মী বিশেষ কেউ নেই, ব্যবসায়ী ও করে খাওয়া লোকেরই আসে।’’

    SSC দুর্নীতিতে মামলাকারী ববিতা সরকারকে পরেশ কন্যার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোর্টের বিচারাধীন বিষয়ে চলছে৷ তারা যা নির্দেশ দিয়েছে, সবাইকে মানতে হবে৷ দুর্নীতি যে ব্যাপক হয়েছে এটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে৷ এখন সরকারের কর্তব্য সেটাকে ঠিক করা এবং যাঁরা যোগ্য তাঁদের চাকরি পাওয়ার অধিকার আছে, তাঁদের চাকরি দেওয়া৷ আর যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, পরীক্ষা না দিয়ে ফেল করে, স্বাভাবিকভাবেই কোর্ট তাদেরকে বাতিল করছে৷’’ তাঁর দাবি, ‘‘পরেশ অধিকারী খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন, ৬১৪ জন নিয়োগ হয়েছিল, বাতিল করা হয়েছে৷ শিক্ষা বিভাগে এখন আছেন, সেই দুর্নীতি আরও বাড়িয়েছেন৷ নিজের লোকদের আত্মীয়দের চাকরি দিয়েছেন৷ এইভাবে বাংলার রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন৷’’

    লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বেচারাম মান্নার মানহানির মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মামলা করলে কোর্টে যাবে বিচার্য বিষয়৷ আর লকেট চট্টোপাধ্যায় যখন বলেছেন, নিশ্চয়ই তাঁর কাছে বহু তথ্য প্রমাণ আছে৷ এরকম বহু তথ্য আমাদের কাছে আসছে৷ আমাকে মেলেও পাঠাচ্ছেন৷ কোন কোন লোক চাকরি পেয়েছেন আমার কাছে একটা পুরো লিস্ট এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূলের কতজন নেতা-নেত্রী চাকরি পেয়েছেন৷ ৯৭ জনের তালিকা আমার কাছে আছে৷’’

    কংক্রিট নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এখান থেকে যে রাস্তা ভাঙড়ের দিকে গিয়েছে কিংবা চন্দননগরের পিছনে এই সমস্ত রেস্ট্রিক্টেড জায়গায় সেখানে বিশাল বিশাল বাংলো সেই সব সরকারি জায়গা দখল করে হয়ে গিয়েছে৷ আর তৃণমূলের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদতে এগুলো সব হয়েছে৷ আমার মনে হয় এগুলো আদালতে যাওয়ার দরকার আছে৷ না হলে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে না৷ কলকাতাকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে৷’’ তাঁর দাবি, ‘‘লোক আদালতে কেন যাচ্ছেন, সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ এই সরকার শুনছে না৷ সরকারের লোকেরা সমস্ত অনৈতিক কাজের মধ্যে যুক্ত রয়েছেন৷’’
  • Link to this news (এই সময়)