• Sonarpur News: সোনারপুরের অপহৃত যুবক উদ্ধার ভাইজ্যাগ থেকে, ধৃত চার
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • সোনারপুরের (Sonarpur) অপহৃত যুবককে উদ্ধার করল পুলিশ৷ টাকা দেওয়ার নাম করে সোনারপুরের এক যুবককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে৷ ঘটনার তদন্তে নেমে ভাইজ্যাগ থেকে অপহৃতকে উদ্ধার করল সোনারপুর থানার পুলিশ। সঙ্গে চারজনকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে সোনারপুরে নিয়ে আসা হয়েছে শনিবার৷ পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    কর্মসূত্রে চার-পাঁচ বছর হল সোনারপুরের বাসিন্দা ঊষারানি। তাঁর আসল বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশে৷ তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে জব প্লেসমেন্টের কাজ করেন। বেশ কয়েকজনকে চাকরি দেওয়ায় কমিশন বাবদ বেশ কিছু টাকা পেতেন তিনি। হাওড়াতে লোক পাঠালে বকেয়া সাত লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা। সেই মতো ৯ জুন ঊষারানিদেবী তাঁর ভাই পুক্কালি আমিনকে সেখানে পাঠান। সেখানে একটি হোটেলে গেলে রুমের ভিতর ঢুকিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় ও জোর করে ঘুমের বড়ি খাইয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর একটি গাড়িতে করে তাকে নিয়ে চলে যাওয়া হয় অন্ধ্রপ্রদেশ।

    এই ঘটনায় ১২ জুন সোনারপুর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে সোনারপুর থানার পুলিশের একটি দল অন্ধ্রপ্রদেশ যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে পুক্কালি আমিনের বাড়িতে ফোন করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা দ্রুত পাওয়ার জন্য পুক্কালিকে মারার ভিডিয়ো পাঠানো হয় তাঁর পরিবারের লোকজনদের কাছে। ঘটনা জানতে পেরে, অন্ধ্রপ্রদেশে পৌঁছে স্থানীয় এক অটোচালককে নিযুক্ত করে পুলিশ। তিনিই অপহরণকারীদের সঙ্গে পুলিশের নির্দেশমতো কথা বলতেন। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার জন্য একটি হোটেলে ডাকা হয় অপহরণকারীদের। সেখানেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় অপহৃতকেও। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে এদিন সোনারপুরে নিয়ে আসে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

    বারুইপুরের পুলিশ সুপার মাকসুদ হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ঊষারানিদেবীর কিছু লোকের ওপর সন্দেহ ছিল৷ উনি কয়েকজনের ছবি আমাদের দিয়েছিলেন৷ ১৮ তারিখ একটা টিম পাঠিয়েছিলাম৷ আমরা এখান থেকে নজর রাখছিলাম৷ আমাদের পরামর্শমতো অভিযোগকারী অপহরণকারীদের একটা হোটেলে আসতে বলেন৷ ২৩ তারিখ দিন ধার্য হয়েছিল৷ সেখানে আমরা চারজনকে গ্রেফতার করি এবং একটি গাড়ি থেকে অপহৃতকে উদ্ধার করি৷’’ ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি৷

    উদ্ধার হওয়া পুক্কালি আমিনের দাবি, ‘‘হাওড়ার একটি হোটেলের ঘরে আমাকে ডেকেছিল৷ এরপর ১৫ জন মিলে আমার ওপর আক্রমণ করে৷ এর মধ্যে তিনজন হাওড়ার বাসিন্দা ছিল৷ আমাকে মারধর করে গলায় চাকু ধরে সাতটা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়৷ এরপর হাওড়ার একজন বলে এখানে সেটেলমেন্ট হবে না গ্রামে নিয়ে যেতে হবে৷ তারপরই আমাকে নিচে গাড়িতে বসিয়ে কোথাও নিয়ে যায়৷ জায়গাটা হয়তো বিশাখাপত্তনম হবে৷ কারণ ঘরটির চারপাশে পাহাড় ছিল৷’’
  • Link to this news (এই সময়)