• ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হস্টেলে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, বাথরুম থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • দুর্গাপুরের (Durgapur) একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (Private Engineering College) হস্টেলের ছাত্রীর (Hostel Student) রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতের নাম শৌর্য্যা ভারতী। বয়স ২০ বছর। ওই ছাত্রী বিহারের বৈশালীর বাসিন্দা। তিনি ওই বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রনিক্স টেলি কমিউনিকেশনের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিধাননগর ফাঁড়ির পুলিশ। তবে এটা কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলেই পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা পুলিশের কাছে যথাযথ তদন্তর (Investigation) দাবি জানিয়েছে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শৌর্য্যার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলেই মৃতার পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন কলেজের পরীক্ষা দিয়ে দুপুর একটার সময় হস্টেলে যান ওই ছাত্রী৷ দুপুর আড়াইটের সময় ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন। এরপর সন্ধ্যা নাগাদ বাথরুমে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখা যায় তাঁকে। এই অবস্থায় দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

    কলেজের প্রশাসনিক ম্যানেজার বিপ্লব বসু ঠাকুর বলেন, "মেয়েটি এই কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। আপাতত ওই মেয়েটি রুমে একাই থাকছিল। কারণ ওর রুমমেট বাড়ি গিয়েছে। এদিন কলেজে তার একটি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষাও দিয়েছিল সে। কলেজ থেকে ফিরে হস্টেলে এসে লাঞ্চও করেছিল স্বাভাবিকভাবেই। এরপর বিকেলে চা খাওয়ার সময় হয়ে গেলেও, ওকে দেখতে না পেয়ে সবাই ওর ঘরের সামনে গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ। ওর সামনের রুমে যারা থাকে, তারা পিছনের ব্যালকনি দিয়ে দেখে বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে শৌর্য্যা। এই দৃশ্য দেখে তারা চিৎকার করে উঠতেই সকলে ছুটে যায়। এরপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছাত্রীর পরিবার সহ পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বিধাননগর ফাঁড়ি থেকে OC নিজে এসে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। কেয়ারটেকার থেকে শুরু করে ছাত্রীদের বয়ানও রেকর্ড করেন তিনি। মৃতার পরিবারের লোকজনও এসে পৌঁছে গিয়েছেন।" এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে হস্টেলে।

    শৌর্য্যার জামাইবাবু নিশান্ত কুমার বলেন, "বাথরুমে যে রডটা থেকে শৌর্য্যার দেহ ঝুলছিল, সেটা তাঁর সমান উচ্চতার। পা মাটিতে ঠেকে থাকবে। এইভাবে মৃত্যু হওয়া কখনওই সম্ভব নয়। এছাড়াও দরজা যদি ভেতর থেকে বন্ধ থাকত, তাহলে দরজা ভাঙলে বাইরের দিকে দরজা ঠোকার বা ভাঙার কোনও চিহ্ন থাকত, সেই সব কিছুই নেই। আমাদের ধারণা, এর মধ্যে অন্য কোনও রহস্য আছে। এটা কিছুতেই আত্মহত্যা হওয়া সম্ভব নয়।" নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
  • Link to this news (এই সময়)