• ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম ২০-তে আদিবাসী ছাত্র
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • বাবা ভিন রাজ্যে দিনমজুর, মা অবসরপ্রাপ্ত চা শ্রমিক। দীর্ঘ আর্থিক অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা ছাড়েননি আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)জেলার কালচিনি ব্লক চুয়াপাড়া চা বাগানের ছাত্র বিষ্ণু ওরাও। আর ছেলের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে শত অনটনের মধ্যেও নাগরাকাটায় একলব্য আবাসিক মডেল স্কুলে পড়াশোনা করতে পাঠান বিষ্ণু ওরাও-র মা, বাবা। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও বসেন বিষ্ণু। সকলের সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিফলে যায়নি। ঘরের চরম অভাব-অনটনের মধ্যেও রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম ২০-তে স্থান করে নিলেন চা বাগান বলয়ের আদিবাসী ছাত্র বিষ্ণু ওরাও। বিষ্ণুর পাশাপাশি বিক্রম সোরেন নামে কালচিনি চা বলয়ের আরও এক আদিবাসী ছাত্রও একই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছেন।

    জানা গিয়েছে, বিষ্ণুর মা বান্দ ওরাও একসময় চুয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। মায়ের উপার্জন দিয়ে কোনমতে দু-বেলা খাবার জুটত পরিবারের। সেই উপার্জনে বিষ্ণুর লেখাপড়ার খরচ চালানো কোনমতেই সম্ভব ছিল না। ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাবা মহাবীর ওরাও পাড়ি দেন জম্বুতে। কোনরকমে দু-মুঠো খেয়ে বিষ্ণুর লেখাপড়ার খরচ চালায় পরিবার। এর মাঝে জেলার অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করে আলিপুরদুয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন বিষ্ণু। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অবশেষে ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় রাজ্যে ভালো ফল করে ১৮ নম্বর স্থান পেয়েছেন চা বলয়ের শ্রমিক পরিবারের ছাত্র বিষ্ণু ওরাও। বিষ্ণুর ভালো ফলাফল দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত পরিবার ও গ্রামবাসীরা।

    বিষ্ণু ওরাও ও বিক্রম সোরেনের প্রতিবন্ধকতা ও ভালো ফলাফলের কথা জানতে পেরে শনিবার তাঁদের ডেকে পাঠান আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক ( (Alipurduar DM) সুরেন্দ্র কুমার মিনা (Surendra Kumar Meena)। প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স-কন্যায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দুই কৃতি ছাত্রদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনা দেন জেলাশাসক। এদিন দুই কৃতি ছাত্রকে সম্বর্ধনা দিয়ে তাঁদের পড়াশোনার সমস্ত খরচ প্রশাসন নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা (Alipurduar DM)। তিনি বলেন, "দীর্ঘ প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এই দুই ছাত্র কৃতি অর্জন করেছে। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই দুই ছাত্রের উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সমস্যায় কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। জেলা প্রশাসন এদের পড়াশোনার সমস্ত খরচের সমস্ত ব্যবস্থা নেবে।"

    দুই আদিবাসী কৃতি ছাত্র বিষ্ণু ওরাও ও বিক্রম সোরেনেকে রোল মডেল করে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পেশাদারী শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে উদ্যোগী প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতার কথা জানতে পেরে অত্যন্ত খুশি বিষ্ণু ওরাও ও তার পরিবার।

    বিচ্ছেদের পরে স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গেই বিয়ে দিলেন যুবক

    প্রসঙ্গত, জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে আলিপুরদুয়ারে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে জেলা প্রশাসন। জেলা শহরের আলিপুরদুয়ার উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদারিহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক দিয়ে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে প্রশাসন। মূলত পিছিয়ে পড়া জনজাতির ছাত্র-ছাত্রীদের চাকরির প্রশিক্ষণ দিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে দুই আদিবাসী ছাত্রের সাফল্যে খুশি জেলা প্রশাসনিক মহল।
  • Link to this news (এই সময়)