• পুজোয় দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা? পর্যটকদের জন্য থাকছে একগুচ্ছ সুবিধা
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২২
  • এবার আর দিশাহীনভাবে বেড়িয়ে সময় নষ্ট নয়। অথবা হোটেল (Hotel) থেকে নেমে ডানদিক নাকি বামদিকে যাবেন ভেবে নাকাল হওয়ার সময় শেষ হরে চলেছে। দুর্গা পুজোর (Durga Puja) আগে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলির তথ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পর্যটন দফতরের (Tourism Department) পক্ষ থেকে টুরিস্ট গাইড (Tourist Guide) গড়ে তোলা হচ্ছে। এবার দিঘা (Digha), মন্দারমণি বা তাজপুরে পাশাপাশি মহিষাদল, হলদিয়া, তমলুক, ময়না, পাঁশকুড়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে (Tourist Place) যেতে চাইলেই মিলবে গাইড। তার জেরে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর এলাকার সমুদ্র যেমন উপভোগ করতে পারবেন তেমনই পাঁশকুড়ার ফুলবাগান থেকে শুরু করে ময়নার রাজবাড়ি, তমলুকের বর্গভীমা মন্দির, মহিষাদল (Mahishadal) রাজবাড়ি, ত্রিবেনী সঙ্গম, হলদিয়া, পটাশপুর, ভগবানপুর, খেজুরি, দরিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা-সহ জেলার সব দর্শনীয় স্থানেই হাত বাড়ালেই মিলবে টুরিস্ট গাইড। দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর পাশাপাশি জায়গাগুলির বিস্তারিত তথ্য ও ইতিহাস তুলে ধরবেন গাইডরা। পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Midnapore) জেলা পর্যটন এলাকার ৩০ জনের একটি ব্যাচ নিয়ে গাইডদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট পাঁচটি ব্যাচে ১৫০ জনকে প্রথম দফায় প্রশিক্ষণের জন্য পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যটন দফতরে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মহিষাদলের বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, "বর্তমান সরকার পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে সাজিয়ে তুলছে। রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেব পূর্ব মেদিনীপুরের স্থান রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে ঘিরে যে সব তথ্য রয়েছে সেগুলি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলায় প্রাথমিকভাবে ১৫০ জনকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কাজে লাগানো হবে। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণিতে গিয়ে কোথায় কি রয়েছে, কীভাবে যাওয়া যাবে, সেখানকার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি নানান সহযোগিতা করবেন গাইডাররা। শুধু দিঘা, তাজপুর,মন্দারমণি নয়।"

    এক পর্যটক কমলিকা মুন্সি বলেন, "পর্যটকদের কাছে রাজ্যের অন্যতম ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি ছাড়াও জেলায় বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যার ইতিহাস আমাদের কাছে অজানা। আমাদের সাথে গাইডাররা থাকলে আমাদের অনেকটাই সুবিধে হবে। জেলার অনেক কিছু জানার আছে যা পড়ুয়াদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধে করবে। রাজ্য সরকারের এই ধরনের উদ্যোগ খুবই ভালো।"

    ইতিহাসবিদ অর্ণব রায় বলেন, "পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যেমন সমুদ্র সৈকতের (Sea Beach) জন্য দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি প্রভৃতি জায়গা পর্যটকদের আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে তেমনই জেলায় আরও অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলি পর্যটকদের অজানা। বর্তমান সরকার যে গাইডারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেই সব জায়গা ঘুরে দেখানোর ব্যবস্থা করছে তা খুব ভালো উদ্যোগ। তবে এটা অনেক আগে করার দরকার ছিল।"
  • Link to this news (এই সময়)