• দু্র্যোগের ছায়া সরছে না হিমাচল থেকে! প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন থমকে, মৃতের সংখ্যা ৩১০ ছাড়াল, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক লাখ 
    আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
  •  

    আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিমাচল প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাত। এর জেরে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (SDMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুন থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত রাজ্যে বৃষ্টিজনিত কারণে মোট ৩১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধস, হঠাৎ বন্যা, ক্লাউডবার্স্ট, ডুবে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। বাকি ১৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়।

    সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্ডি জেলা। সেখানে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে- এর মধ্যে ২৯ জন বৃষ্টিজনিত এবং ২২ জন সড়ক দুর্ঘটনায়। এর পরেই রয়েছে কাংগ্রা (৪৯ জন), চাম্বা (৩৬ জন) এবং শিমলা (২৮ জন)।

    এই সময়কালে (২০ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত) রাজ্যজুড়ে মোট ৩৬৯ জন আহত হয়েছেন এবং ৩৮ জন এখনও নিখোঁজ। ভারী বৃষ্টিপাতে পশুপালন ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ১,৮৫২টি গবাদি পশু এবং ২৫,৭৫৫টি হাঁস-মুরগি মারা গিয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ উদ্ধার ও পুনঃস্থাপন কার্যক্রমে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। খবর অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে ৫৩৪টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে এবং ১,১৮৪টি বিদ্যুৎ বিতরণ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কুল্লু জেলায়। সেখানে ১৬৬টি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ, যার মধ্যে আবার একটি জাতীয় সড়কও রয়েছে। মান্ডি জেলায় ২১৬টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দিক থেকে কুল্লু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৬০০টি ট্রান্সফরমার বন্ধ, মান্ডিতে ৩২০টি। অন্যদিকে, কাংগ্রা জেলার পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যেই ২৬৬টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

    চণ্ডীগড়-মানালি জাতীয় সড়কও একটি ভূমিধসের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার ও রাস্তা পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিরও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি অবকাঠামো- যেমন রাস্তা, পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ লাইন- এর ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২,৪৪,০০০ লাখ টাকা। বেসরকারি সম্পত্তি- যেমন বাড়ি, দোকান, গোশালা এবং ফসল- এর ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৮,০০০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৬২,৩৩৬.৩৮ লাখ টাকা।

    রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (SDMA) সতর্ক করেছে যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জনপরিসেবা আরও বিঘ্নিত হতে পারে। একইসঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তেও পারে। জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই জরুরি পরিষেবা পুনঃস্থাপন, আটকে পড়া বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এহেন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আবহাওয়া দপ্তর (IMD) চাম্বা, কাংগ্রা ও মান্ডি জেলার জন্য আজ ও আগামীকাল ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert) জারি করেছে। খবর মারফত জানা গিয়েছে ২৮ আগস্ট চাম্বা, লাহৌল-স্পীতি, কাংগ্রা, কুল্লু ও মান্ডি জেলায় ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি ছিল এবং ২৯ আগস্ট সিমলা ও মান্ডি জেলায় একই সতর্কতা জারি থাকবে।এছাড়া, ৩০ ও ৩১ আগস্ট মান্ডি, সিমলা ও সোলান জেলার জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert) জারি করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট কুল্লু, মান্ডি, কাংগ্রা ও সিমলা জেলাতেও কমলা সতর্কতা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)