মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে সাইকেল নিয়ে লখনউ থেকে বৃন্দাবন, কিশোরের সাহসে তাজ্জব সবাই
আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের লখনউ-এ সম্প্রতি এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছে। খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মাত্র ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র বিরাট ওরফে বীর সোনি, মায়ের বকুনি খেয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে বৃন্দাবনে প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে যায় সে। লখনউয়ের পিংক সিটি, বুধেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোর ২০ অগাস্ট বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এমনকী সে তার নিজের রেঞ্জার সাইকেল নিয়ে ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে বৃন্দাবনের উদ্দেশে রওনা হয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরাটের বাবা ধীরাজ বর্মা ধানিয়ামাহরি ব্রিজের কাছে একটি গয়নার দোকান চালান। সেই দিন বিরাট তার মা আরতি সোনির কাছে বই কেনার জন্য ১০০ টাকা চায়। কিন্তু মা তার পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় রেগে গিয়ে বকাঝকা করেন এবং বলেন, বাবাকে এ নিয়ে অভিযোগ জানাবেন। এতে মন খারাপ করে বিরাট চুপিচুপি ১০০ টাকার নোটটি নিয়ে বিকেল ৪:১৫ টার দিকে তার সাইকেল নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, সন্ধ্যে পর্যন্ত ছেলেটি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে মা-বাবা পাড়া থানায় রাত ৮টার দিকে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখে এবং পশ্চিম লখনউয়ের উপ-পুলিশ কমিশনার বিশ্বজিৎ শ্রীবাস্তব একটি তদন্তকারী দল গঠন করেন। তদন্ত শুরু হলে পুলিশ জানতে পারে যে ছেলেটি তার মায়ের ফোনে মথুরার লোকেশন খুঁজে দেখেছিল। এরপর পুলিশ এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করতে শুরু করে।
প্রথম ফুটেজ মেলে ডঃ শকুন্তলা মিশ্র ন্যাশনাল রিহ্যাবিলিটেশন ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে। সেখানে ছেলেটিকে আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যেতে দেখা যায় বিকেল ৬টা নাগাদ। এরপর আরও একটি ফুটেজে পায় পুলিশ৷ সেখানে দেখা যায় সে রাত ৮:৪৭ টায় কাকোরি টোল প্লাজা অতিক্রম করছে। রাত ১০টা নাগাদ সে ২৪৫ কিলোমিটার পেরিয়ে যায়, কিন্তু ২৪৮ কিলোমিটারের পর থেকে তার আর কোনও হদিশ মেলে নি। পুলিশ তখন সেই রাস্তায় টহলদারদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কিন্তু এরপরও তারা কোনও সুরাহা করতে পারেনি।
এরপর পুলিশ মথুরার পথে খোঁজ চালাতে শুরু করে। তদন্তের একটা পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, এই দীর্ঘ পথ সাইকেল চালিয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিশোর। এরপর স্থানীয় এক ট্রাক চালককে থামিয়ে তাঁর কাছে সাহায্য চায় এরপর নিজের সাইকেলসহ ট্রাকে উঠে পড়ে। জানা গিয়েছে, সেই চালককে কানপুর থেকে কিছু মালপত্র তুলতে হয়। এর ফলে চালক পরবর্তী দুই দিন কানপুরেই ছিলেন বলে জানায় পুলিশ৷ ফলস্বরূপ বিরাটও তাঁর সঙ্গেই ছিল। এরপর ২৩ অগাস্ট সকালে, ট্রাকচালক তাকে ৯টার দিকে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে নামিয়ে দেন। সেখান থেকে সে আবার সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে যায় গৌরী গোপাল আশ্রমে, যেখানে সে এর আগে পরিবারের সঙ্গে থেকেছিল। কাজেই আশ্রম সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি ছিল।
জানা গিয়েছে, সেই দিন বিরাট মথুরার নানা ধর্মীয় স্থান যেমন বাঁকে বিহারী মন্দির, চারধাম, প্রেমানন্দ মহারাজ আশ্রম, ইস্কন মন্দির এবং শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি দর্শন করে। অবশেষে তিন দিন পর পুলিশ তাকে বৃন্দাবনের অনিরুদ্ধাচার্য আশ্রম থেকে খুঁজে বের করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে সে প্রেমানন্দ মহারাজের ভিডিও প্রায়ই দেখত এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল। মা’র ফোন ব্যবহার করেই সে গন্তব্যস্থল এবং পথনির্দেশ খুঁজে বের করে। তবে, বৃন্দাবনে পৌঁছানোর পরও সে প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি।
সম্প্রতি এই সাহসী কিন্তু বিপজ্জনক যাত্রা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছোট ছেলের এহেন মনোবল ও বিশ্বাসে সকলে বিস্মিত। পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে কিশোর নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।