‘হাম দো, হামারে তিন’, ফের নিদান সঙ্ঘপ্রধান ভাগবতের, ‘মোদি সরকারের সঙ্গে চাপানউতোর থাকতে পারে, ঝগড়া নেই’
বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৫
নয়াদিল্লি: হিন্দুদের আরও সন্তান জন্ম দিতে হবে। একথা আগেও বলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) নেতারা। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতও ব্যতিক্রম নন। গত ডিসেম্বর মাসে নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে তিন সন্তান নীতির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। সেবার তাঁর হাতিয়ার ছিল জনসংখ্যা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা। আর বৃহস্পতিবার আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ভাগবত ঢাল করলেন ডাক্তারদের। ফের নিদান দিলেন, ‘হাম দো,হোমারে তিন’! প্রত্যেক ভারতীয় দম্পতির উচিত তিনটি করে সন্তানের জন্ম দেওয়া। কারণ, ডাক্তাররা তাঁকে বলেছেন, সঠিক বয়সে বিয়ে এবং তিনটি সন্তান বাবা-মা এবং শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে! আর বাড়িতে ভাই-বোন থাকলে সন্তান অহংকারী হয় না, পরিবারেও অশান্তি থাকে না। সীমান্তে অনুপ্রবেশের জন্য জনবিন্যাস বদলে যাওয়া নিয়ে বর্তমানে সরব প্রধানমন্ত্রী মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই ইস্যুতে এক প্রশ্নের উত্তরে ভাগবতের সাফ জবাব, ‘ভারতের জনসংখ্যা নীতিতে ২.১ সন্তান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা গড় হিসাবে ঠিক আছে। কিন্তু সে তো অঙ্কে, যখন জন্মের কথা আসে, দুইয়ের পরে তিন হয়। চিকিৎসকরা আমাকে এটাই বলেছেন।’
শুধু তিন সন্তান নীতি নয়, কেন্দ্রের মোদি সরকারের সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কে নিয়েও এদিন খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন সঙ্ঘপ্রধান। হিংসাদীর্ণ মণিপুরে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়া নিয়েই সূত্রপাত হয়েছিল এই বিতর্কের। স্বয়ং মোহন ভাগবত তখন পরামর্শ দিয়েছিলেন, নির্বাচনী আড়ম্বর ছেড়ে আগে মণিপুর হিংসার সমাধান করতে হবে। গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, তাহলে কি বিজেপির সঙ্গে মতাদর্শগত অভিভাবক সঙ্ঘের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে? গত বছর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অপ্রত্যাশিত খারাপ ফল সেই জল্পনাকে আরও তীব্রতর করে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এপ্রসঙ্গে ভাগবত সাফ বলেন, ‘কেন্দ্রের সঙ্গে চাপানউতোর থাকতে পারে, কিন্তু ঝগড়াঝাঁটি নেই। যখন আমরা আপসের কথা বলি, তখন সেই চাপানউতোর আরও বাড়ে।’ যদিও রাজ্য সরকারগুলি হোক বা কেন্দ্রীয় সরকার— সবার সঙ্গেই আরএসএসের খুব ভালো সমন্বয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন সঙ্ঘপ্রধান। কিন্তু কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কথা গোপন করেননি।
রাজনীতির অলিন্দে গত কয়েকমাস ধরেই তীব্র জল্পনা, প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ভাবমূর্তিতে রাশ টানতে চাইছে আরএসএস। সেই সূত্রেই অবসরগ্রহণের বয়স নির্ধারণ নিয়ে ভাগবতের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরে কম চর্চা হয়নি। যদিও এদিন সেই জল্পনা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘আমি কখনই বলিনি ৭৫ বছর বয়স হলে আমি অবসর নেব বা অন্য কারও অবসর নেওয়া উচিত। সঙ্ঘ আমাদের যে দায়িত্ব দেবে, আমরা সবাই তা পালন করব।’ যদিও বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচন দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে খানিক কটাক্ষের সুর শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেনি মোদির দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এনিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ, আরএসএসের সিদ্ধান্ত ছাড়া একটা পাতাও নড়ে না বিজেপিতে। এই ইস্যুতে এদিন ভাগবত বলেন, ‘বিজেপির বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, একথা ঠিক নয়। তেমনটা হলে (সভাপতি নির্বাচনে) এত সময় লাগত না। ওরা সময় নিক। আমাদের কিছু বলার নেই। সিদ্ধান্ত ওদেরই নিতে হবে।’ ছবি: পিটিআই