৭ দিনে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ, এসএসসিকে সুপ্রিম নির্দেশ
বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাতদিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে চাকরিহারা অযোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা। তুলতে হবে কমিশনের ওয়েবসাইটে। পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার স্কুল সার্ভিস কমিশনকে এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল, নতুন নিয়োগের পরীক্ষার দিন পিছোবে না। নবম-দশমের জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এবং একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ১৪ সেপ্টেম্বরই হবে। চাকরিরত ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা ৪৫ শতাংশ কাট-অফ মার্কসের যোগ্যতামানেই পরীক্ষায় বসতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়ম, অর্থাৎ যোগ্যতামান ৫০ শতাংশ তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলেই এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ।
নিজেদের ‘যোগ্য’ বলে দাবি করা বিজয় বিশ্বাস সহ কয়েকজন মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, কিছু অযোগ্যকে পরীক্ষায় বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারই ভিত্তিতে পরীক্ষার দিন পিছোনোর আবেদন করা হয়েছিল। এদিন তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন মানেকা গুরুস্বামী। যদিও বিচারপতি সঞ্জয় কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘পরীক্ষার দিন পিছোবে না। রাত জেগে পড়ে পরীক্ষা দিন। আর কোনও দাগি তথা অযোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে দেখলেই আমাদের বলুন। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আগামী ৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি।
দুর্নীতির অভিযোগে গত ৪ এপ্রিল দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। তবে যোগ্যদের আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখায় ছাড় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এবং নতুন করে যোগ্যদের নিয়োগের নির্দেশ দেয়। সেইমতোই এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেখানেই অভিযোগ উঠছে, এই পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অযোগ্যদেরও। ওই অভিযোগে এদিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিচারপতির বেঞ্চ। পর্যবেক্ষেণ বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৫ হাজার ৮০০ যোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে ২ হাজারের মতো এখনও আবেদন করেননি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় রয়েছে। কিন্তু অযোগ্যদের নামের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন কি? সিবিআই তো অযোগ্যদের তালিকা দিয়েছে। তাহলে কীসের এত গোপনীয়তা?’
জবাবে কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সাতদিন সময় দিলেই নাম প্রকাশ হয়ে যাবে।’ সেই মতো সুপ্রিম কোর্টও সাতদিন সময় দিয়েছে। যদিও পর্যবেক্ষণে কমিশন, রাজ্য সরকার এবং বোর্ডের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেছেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার। বলেছেন, ‘একজনও যদি অযোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দেন, তাহলে কিন্তু ফল ভুগতে হবে। ...ইউ উইল ফেস দ্য মিউজিক। কেন বারবার অযোগ্যদের সুযোগ দিতে চাইছেন? নিশ্চয়ই কোনও মন্ত্রীর প্রার্থী রয়েছে। এমনিতে তো যোগ্য প্রার্থীদের সর্বনাশ করে দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের যেখানে আদর্শ (মডেল) হওয়া উচিত ছিল, সেখানে তা করেননি। উল্টে অযোগ্যদের সুযোগ দিতে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন! তাই বলছি, আমরা কিন্তু গভীরভাবে নজর রাখছি। কোনও বেনিয়ম দেখলেই তার ফল ভুগতে হবে।’ যদিও কল্যাণবাবুর সাফ জবাব, ‘কোনও অযোগ্যকে সুযোগ দিতে চাইছি না। এটা অভিযোগ মাত্র।’