• বনবস্তি মাতে উমার আরাধনায়, সূর্য ডুবলে হাজির হাতির দল, লেপার্ডও
    এই সময় | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • রনি চৌধুরী, বানারহাট

    এক পাশে জঙ্গল। অন্য পাশে চা-বাগান। মাঝে রয়েছে বনবস্তি। সন্ধে নামলেই সেখানে ঘোরাফেরা করে হাতির দল। কখনও নালায় ওত পেতে থাকে লেপার্ড। এমন গা-ছম ছমে আবহে মধ্যে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উমা আসেন বনবস্তিতে। এতেই উৎসবের আনন্দে ভেসে যান তোতাপাড়ার বাসিন্দারা।

    ১৫ বছর আগে এই বস্তির মানুষ আর পাঁচজনের মতো পুজোয় আমেজ বুঝতেই পারতেন না। ছুটির দিনগুলো তাঁদের সাধারণ দিনের মতোই কাটত। এই বনবস্তি ডুয়ার্সের মরাঘাট রেঞ্জের মধ্যে পড়ায় এর একপাশে রয়েছে শাল-সেগুন-মেহগনির ঘন জঙ্গলে। সেখানে ঘুরে বেড়ায় বুনো হাতি, চিতাবাঘ। বনবস্তির একপাশে দিগন্তজোড়া চা-বাগান।

    সেখানেও হানা দেয় বুনোরা। রাত হলে অনেক সময়ে বনবস্তিতে ঢুকে পড়ে তারা।তাই প্রাণ হাতে করে বাইরে বের হতে হয় বাসিন্দাদের। ফলে তাঁদের কাছে দুর্গাপুজোর সেই আমেজ অধরাই থেকে গিয়েছিল। পনেরো বছর আগে বনাধিকারিক কল্যাণ দাসের উদ্যোগে এই বস্তিতে দুর্গাপুজো শুরু হয়। দেবীর আগমনে সেই প্রথম উৎসবের ছোঁয়া লাগে বনবস্তিতে। তার পর থেকে প্রতি বছর বনবস্তিতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। বনের ভিতরে পুজো হওয়ায় অনেকে এটিকে 'বানারহাটের বনদুর্গার পুজো' বলেন।

    আলোর রোশনাই নেই। কিন্তু সাদামাটা এই পুজো ঘিরে তোতাপাড়া- সহ শ্রমিকপাড়া, মোগলকাটা বস্তি ও চানাডি গ্রামের বাসিন্দারাও অংশ নেন। সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় পুজো। বিভিন্ন বাগান থেকে আসা চা-শ্রমিকরা মণ্ডপের সামনে ধামসা-মাদল বাজিয়ে নৃত্য শুরু করেন। বিকেলের মধ্যে পুজোর সমস্ত আচার শেষ করে সন্ধের আগে বাড়ি ফিরে যান তাঁরা। কারণ সূর্য ডুবলে মণ্ডপের সামনে অনেক সময়ে হাতির দল, লেপার্ড আনাগোনা করে। পুজোর তিন দিন বসে মেলা। থাকে খিচুরি ভোগের আয়োজন।

    তবে সমস্ত অসুবিধার কথা ভুলে দুর্গোৎসবের আনন্দে এই কয়েকটা দিন গা ভাসান বনবস্তির আট থেকে আশি। সারা বছরের ক্লান্তি ভুলে পুজোর ক'টা দিন যেন রঙিন হয়ে ওঠে রিতা রাভা, বুধুয়া ওরকো, রিমা ওরাওঁদের জীবন। রিমা বলেন, 'ধান পাকার মরশুম মানেই হাতির আনাগোনা বেড়ে যাওয়া। চা-বাগানের নালায় চিতাবাঘ ওত পেতে থাকে। তাই রাতে বাইরে থাকা একেবারেই নিরাপদ নয়। দিনের বেলায় আমরা আনন্দটা সেরে নিই।'

    মরাঘাট রেঞ্জের আধিকারিক চন্দন ভট্টাচার্য বলেন, 'বন বস্তির মানুষের কাছে এই পুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ তাঁরা শহরের পুজো দেখতে যেতে পারেন না। তাই বনদপ্তরের তরফে তাঁদের এই পুজোয় সাহায্য করা হয়।'
  • Link to this news (এই সময়)