সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২২ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে লাগু হচ্ছে নয়া জিএসটি কাঠামো। রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ঘোষণার পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি জানালেন, ‘এতগুলো বছর ধরে ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’-এর মাধ্যমে যে বিরাট ক্ষত তৈরি হয়েছে তাতে সাধারণ ব্যান্ডেডের প্রলেপ দেওয়া হল।’
প্রধানমন্ত্রী ভাষণের পরই এক্স হ্যান্ডেলে তাঁকে তোপ দেগে খাড়গে লেখেন, ‘৯০০ ইঁদুর খেয়ে বিড়াল এবার হজ করতে চললেন। মোদিজি, আপনার সরকার কংগ্রেসের সরল জিএসটির পরিবর্তে আলাদা আলাদা ৯টি স্ল্যাবে তোলাবাজির জন্য ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ লাগু করেছিল। গত ৮ বছরে এর মাধ্যম ৫৫ লক্ষ কোটি টাকা উসুল করা হয়েছে। এখন আপনি ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার ‘সঞ্চয় উৎসব’-এর কথা বলছেন। গভীর ক্ষত তৈরি করার পর এখন সেই ক্ষতে সাধারণ ব্যান্ড-এইডের প্রলেপ দিচ্ছেন। দেশের মানুষ কখনই ভুলবে না আপনি তাঁদের চাল, ডাল, শস্য, পেন্সিল, বই, চিকিৎসা সামগ্রী, কৃষকদের ট্রাক্টর ? সবকিছুর উপর জিএসটি আদায় করেছেন। আপনার সরকারের উচিত জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ একইসঙ্গে জিএসটি বাবদ সরকারের আয়ের খতিয়ান তুলে ধরেন খাড়গে।
নরেন্দ্র মোদি অবৈধভাবে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, প্রধানমন্ত্রী জিএসটি কাউন্সিলের সংশোধনীর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ এটি একটি সাংবিধানিক সংস্থা।’ কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে। তিনি লেখেন, ‘আগামিকাল জিএসটি হার কমানোর কথা। সব ঘোষণা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। লালকেল্লা থেকে ঘোষণাও করে ফেলেছেন মোদি। আজ তাঁর মনে হল নিজের মুখ খানিক উজ্জ্বল করার সুযোগ কীভাবে ছাড়া যায়! তাই জোর করে এই ভাষণ। এমনভাবে ভাষণ দিলেন যেন ২০১৭ সালে অন্য কেউ পুরনো জিএসটি কাঠামো তৈরি করেছিল। ওনার উচিত ছিল ক্ষমা চাওয়া।’
উল্লেখ্য, এদিন মূলত জিএসটির সংশোধিত কাঠামোর কথা দেশবাসীকে জানিয়ে মোদি বলেন, “এখন থেকে শুধুমাত্র ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ GST থাকবে।” এর ফলে বহু জিনিসের দাম কমে যাবে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোদি জানান, দেশকে আত্মনির্ভর করতে সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, “আগামিকাল থেকে দেশবাসীর সাশ্রয় উৎসব শুরু হবে। এর ফলে দেশবাসীর সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে এবং অনেক পণ্য সস্তা হয়ে যাবে।” দেশবাসীকে স্বদেশি পণ্য কেনা ও বিদেশি বর্জনেরও আবেদন জানান মোদি।