চাঁদা: সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে জখম ৫ পুলিশ, নকশালবাড়িতে গ্রেফতার চার
বর্তমান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: দুর্গাপুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ঝামেলা। আর সেই ঝামেলা সামাল দিতে গিয়ে পাল্টা আক্রান্ত হলেন তিন মহিলা পুলিশ কর্মী, এক কনস্টেবল ছাড়াও পুলিশের এক অফিসার। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দু’পক্ষের মোট চারজনকে। রবিবার রাতে অপ্রীতিকর এমন ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের জগন্নাথপুরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতে জগন্নাথপুরের বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো কমিটির জনা পাঁচেক সদস্য ওই এলাকায় চাঁদা সংগ্রহ করতে বের হন। তাঁরা একটি মোবাইলের দোকানে চাঁদা সংগ্রহ করতে ঢোকেন। চাঁদা বাবদ ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০০ টাকা দাবি করা হলে ব্যবসায়ী ৩০ টাকা দিতে সম্মত হন। তখনই ব্যবসায়ী এবং চাঁদা আদায়কারীদের মধ্যে এক-দুই কথায় বচসা বাঁধে। মাত্র ৩০ টাকা কেন, প্রশ্ন তোলেন পুজো কমিটির সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে এক-দু’জন ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ্য করে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝামেলা শুরু হয়। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে কৌতূহলীদের ভিড় বাড়ে। কয়েকজন ব্যবসায়ী একজোট হয়ে প্রতিবাদ করেন। গ্রামীণ রাস্তা আটকে চলে ধস্তাধস্তি। পরে তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।
এদিকে, চাঁদা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে নকশালবাড়ি সার্কেল ইনস্পেকটর সৈকত ভদ্রের নেতৃত্বে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ কর্মীরা দু’পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু একময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। তা সামাল দিতে গিয়ে সিআই সৈকত ভদ্র হাতে চোট পান। পাশাপাশি পুলিশের তিন মহিলা কর্মী ও এক কনস্টেবলও ঘটনায় জখম হন। এদিকে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গড়াতে থাকলে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ জনতার দিকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে। জখম পাঁচজনকে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে থাকলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়ের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। চলে ধড়পাকড়, মাইকিং। এলাকায় শান্তি ফেরাতে রাতভর গ্রামে টহল দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে। এই ঘটনায় দু’পক্ষের চারজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল শিবা সাহানি, বিকাশচন্দ্র রায়, মহম্মদ রমজান ও মহম্মদ কুমার রাজা। এরা সকলে বিধাননগরের বাসিন্দা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায় বলেন, চাঁদা নিয়ে রবিবার রাতে দুই পক্ষের ঝামেলা হয়েছিল। যা সামাল দিতে গিয়ে সিআই সহ পাঁচ পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। আমরা স্বতঃপ্রণোদিত একাধিক মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। চারজনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। এদিকে, রাতে ওই এলাকায় উত্তেজনা হলেও এদিন নতুন করে কোনও গণ্ডগোল হয়নি। সকাল থেকে বাড়তি পুলিশ এলাকায় মোতায়েন থাকে। বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের ওসি প্রীতম লামা বলেন, বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পিকেটিং বসানো আছে। বিশেষ মোবাইল ভ্যান এলাকায় টহল দিচ্ছে। এদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো কমিটির কর্মকর্তার এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। জখম নকশালবাড়ি সার্কেল ইনস্পেকটর সৈকত ভদ্রকে নিয়ে যাচ্ছেন সহকর্মীরা।-নিজস্ব চিত্র