• পুজোয় ডুয়ার্সে একদিনের ট্রিপ, নজর কাড়বে ভুটানঘাট, কালীখোলা, নারারথলি
    বর্তমান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: পুজো এলেই বাঙালির মন হয় উড়ু উড়ু। এইসময় বাঙালিকে ঘরে আটকে রাখা দায়! পুজোয় ঘুরতে যাওয়া মানে পাহাড়-জঙ্গল-চা বাগান-নদীঘেরা ডুয়ার্স। বৃষ্টিতে ভিজে সবুজে ঘেরা ডুয়ার্স আরও সুন্দরী হয়ে উঠেছে। অফবিট নির্জনতা, ঝরনার কল্লোল, পাখিদের কলতান, একটি কুঁড়ি দু’টি পাতার ঘ্রাণের টানে পর্যটকরা অবশ্যই আসতে পারেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফাঁসখাওয়া, হাতিপোঁতা, ভুটানঘাট, নারারথলি বিল বা কালীখোলায়। জেলা সদর আলিপুরদুয়ার থেকে গাড়ি ভাড়া করে অল্প খরচে একদিনেই ঘুরে আসা যায় বক্সার এই এলাকাগুলি। 

    ফাঁসখাওয়া চা বাগানের পাশেই জেলার ছোট্ট সাইলি মাইলি পাহাড়। সাইলি মাইলির জিরো পয়েন্টের ওপারেই হাতে হাত ধরে আছে নীলাভ ভুটান পাহাড়ের হাতছানি। সাইলি মাইলি পাহাড়ের পাদদেশে ফাঁসখাওয়া বাগানের নির্জনতা মন ভরিয়ে দেয়। কানে বাজবে পাহাড়ি ঝোরা ঝরনার মৃদু কল্লোল ধ্বনি। উপরি হিসেবে মুগ্ধ করবে ফাঁসখাওয়া চা বাগানের মাঠ। এটা মাঠ নয়, যেন সবুজ গালিচা। 

    ফাঁসখাওয়ার পাশেই আছে হাতিপোঁতা, ময়নাবাড়ি ও কানজালি বস্তি। হাতিপোঁতাতেও আছে সাইলি মাইলি পাহাড়। আছে অসম্ভব নৈঃশব্দ্য। হাতিপোঁতার পাশে জয়ন্তী চা বাগানের ঘ্রাণ ও মৃদু জলধারার কলতানেও মন ভালো হয়ে যায়। এখানে পুলিশ চৌকিও আছে। 

    হাতিপোঁতার পাশেই ভুটানঘাট। ভুটানঘাটে প্রকৃতি যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে। পাহাড়ি রায়ডাক নদীর হিমশীতল স্বচ্ছ জলধারা শরীর জুড়িয়ে দেয়। রায়ডাকের ওপাড়ে নীলাভ ভুটান পাহাড়ের হাতছানি। ওপারেই রয়েছে ভুটানের পিপিং। তবে চাইলেই চট করে ভুটানঘাটে যাওয়া যায় না। এখানে যেতে হলে বনদপ্তরের আগাম অনুমতিপত্র হাতে থাকা ভালো। 

    বক্সার পূর্ব অংশেই কামাখ্যাগুড়ির পাশে পাখিদের আস্তানা বিখ্যাত নারারথলি বিল। বিলে নাম না জানা হরেক পাখির সুর তোলা কলতান শোনা যায়। নারারথলি থেকে চট করে ঘুরে আসা যায় ভুটানের পিপিংয়ের পাশে কুমারগ্রামের কালীখোলা। কালীখোলা একসময় কমলালেবুর বন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। একদা কেএলওর আতুঁড়ঘরও ছিল এই কালীখোলা। এখানকার নির্জনতা ও সবুজ বৃক্ষরাজিও মুগ্ধ করে মনকে। এখানে সর্বদা সীমান্ত প্রহরায় আছেন এসএসবি জওয়ানরা। 

    এই পর্যটন সার্কিটে রাত কাটাতে চাইলে তারও ব্যবস্থা আছে। বক্সার পূর্ব ডিভিশনেই আছে বনদপ্তরের শিলবাংলো ও রায়ডাক বনবাংলো। কাঠের তৈরি বনদপ্তরের এই বাংলোর বারান্দায় বসে চাঁদের আলোয় বাইসন, হরিণ, ময়ূর ও বাইসন দেখা যায়। কখনও কখনও দেখা যায় হাতির দলের বিচরণও। 

    ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি পার্থসারথি রায় বলেন, বক্সা মানেই রাজাভাতখাওয়া, জয়ন্তী, বক্সা পাহাড় নয়—বক্সার পূর্ব ডিভিশনের এই সার্কিটও অসম্ভব আকর্ষণীয়। পর্যটকরা এলে অবশ্যই তাঁদের ভালো লাগবে।  
  • Link to this news (বর্তমান)