• শিলিগুড়িতে জমজমাট পুজোর বাজার, বৃষ্টিতেও উৎসবের আমেজে তাল কাটেনি
    বর্তমান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আচমকা আকাশে মেঘ। মুহুমুর্হু মেঘের গর্জন। বজ্রবিদ্যুৎ সহ জোর বৃষ্টি। সোমবার সন্ধ্যায় এমন বিরূপ আবহাওয়া দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে ব্যবসায়ীদের। তবে বৃষ্টি সামান্য থামতেই বাজারে স্রোত নামে জনতার। তাঁরা জল-কাদা মাড়িয়েই কেনাকাটা সারেন। কেনাকানার ফাঁকে চা, কফি, ফুচকা ও ফাস্টফুডে সন্ধ্যায় টিফিন সারেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ রাতে মোগালাই কিংবা বিরিয়ানিতে পেটপুজো সেরে মণ্ডপ দেখে বাড়ি ফেরেন। যারজেরে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় অনেক রাত পর্যন্ত যানজট ছিল। 

    শিলিগুড়ির এক ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন শহরের বিভিন্ন রাস্তায় দিনভর ভিড় থাকলেও তেমন সমস্যা হয়নি। ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা সুষ্ঠুমতো যানজট নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করায় বেশকিছু বাইক আরোহী সহ ছোট গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

    এদিন সকাল থেকেই ছিল মেঘমুক্ত নীল আকাশ। বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টির লক্ষণ ছিল না। এমন অনুকূল আবহাওয়ায় মেগা উৎসব দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মেতে ওঠে শিলিগুড়ির আমবাঙালি। পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপসজ্জার কাজ জোর কদমে চলে। কুমোরটুলি থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় মণ্ডপে। এজন্য কুমোরটুলিতেও ছিল ভিড়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্য বাজারেও ভিড় করেন ক্রেতারা। 

    বিকেলে শিবমন্দিরের গৃহবধূ সনু গোস্বামী সেভক রোডে একটি শপিংমলে কেনাকাটার ফাঁকে বলেন, আশ্বিন মাসের আকাশ। কোনও বিশ্বাস নেই। যেকোনও সময় বৃষ্টি নামতে পারে। তাই ভরদুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুজোর কেনাকাটা করতে এসেছি। সকলের পোশাক, সাজগোজের উপকরণ, জুতো কেনা হয়েছে। এখন ফুচকা, মমো খেয়ে সিটিঅটো ধরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব। ব্যবসায়ীরাও বলেন, পুজোর বাজারে ব্যবসাবাণিজ্য তুঙ্গে রয়েছে।  

    সন্ধ্যার পর আচমকা ক্ষণিকের জন্য এই ছন্দে তাল কাটে। আকাশে জমে কালো মেঘ। বজ্র বিদ্যুৎ সহ বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়। তাতেই হতাশ হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হবে বলেই ভাবেন। বিভিন্ন পুজো কমিটিকেও মণ্ডপ, প্রতিমা ত্রিপল দিয়ে ঢাকতে দেখা যায়। কিন্তু বৃষ্টি সামান্য থামতেই বাজারের ছবিটাই পাল্টে যায়। স্রোতের মতো বিধান মার্কেট, শেঠশ্রীলাল মার্কেট, হিলকার্ট রোড, হকার্স কর্নার, সেভক রোড, জংশন মার্কেটে ক্রোতারা ঢোকেন। অনেক রাত পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। বৃষ্টিতে ফুটপাতে জল জমলেও তাতে ক্রেতা কমেনি। তাঁরা জল, কাদা মাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের জিনিস কিনেছেন। তাঁদের কারও কাছে ছাতা, আবার কারও কাছে ছিল রেনকোট। শপিংমলগুলিতেও ছিল ঠাসা ভিড়। 

    শেঠশ্রীলাল মার্কেটে কেনাকাটার ফাঁকে মহাকালপল্লির গৃহবধূ সুস্মিতা দাস বলেন, সারা বছর ধরে মেগা উৎসবের অপেক্ষা করে আছি। স্বামী বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি বোনাস পেয়েছেন। তাই ঘরে আর অপেক্ষা করে না থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাজারে বেড়িয়ে কেনাকাটা সারলাম। হাকিমপাড়ার গৃহবধূ শুভ্রা সাহা বলেন, রেস্তরাঁয় গিয়ে বিরিয়ানি খেয়ে আশপাশের পুজো মণ্ডপ দেবে বাড়ি ফিরব। 

    হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনৎ ভৌমিক বলেন, এদিন সকাল থেকেই ব্যবসা ভালো হয়েছে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি নামায় ব্যবসা মার খাবে বলে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। বৃষ্টি থামার পর বাজার জমে ওঠে। শহর, গ্রাম, পাহাড় ও ডুয়ার্সের লোকরা বাজারে ভিড় করেছিলেন।
  • Link to this news (বর্তমান)