• গুচিয়া পাতায় খিচুড়ি ভোগ, ডুয়ার্সে ‘জঙ্গলের স্বাদ’, বোরলি-এলং-চেপ্টি মাছ-দেশি মুরগি কিংবা ডোল্লে লঙ্কা দিয়ে লাউয়ের ডগার চচ্চড়ি
    বর্তমান | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • সায়ন মজুমদার, শিলিগুড়ি: কেউ বাঁচার জন্য খান। কেউ খাওয়ার জন্য বাঁচেন। অধিকাংশ বাঙালি দ্বিতীয় দলটিতে পড়েন। স্বাস্থ্য সচেতনতার সুনামি যতই আছড়ে পড়ুক বাঙালি আছে বাঙালির মতোই। পুজো এসে গিয়েছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্যান্ডেল হপিংয়ের পাশাপাশি চলবে দেদার বিরিয়ানি, কোরমা, পটলের দোরমা। কিন্তু পুজোয় যদি বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান থাকে তাহলে? পুজোর আনন্দ, খাওয়াদাওয়া তাহলে কি মিস? এক্কেবারেই না।

    যদি গন্তব্য হয় উত্তরবঙ্গের পাহাড়-ডুয়ার্স। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির সমতল কিংবা দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের পাহাড়, নানা রূপের দুর্গা দেখার অভিজ্ঞতা তো হবেই। তার সঙ্গে বাড়তি মিলবে, বাঙালি, নেপালি, পাহাড়ি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলির হরেক 

    স্বাদের খাবার। তার একাধিক পদ মিলবে। 

    বিশেষ করে পুজোয় ডুয়ার্সের জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে মিলবে অরণ্যের স্বাদ চেখে দেখার সুযোগ। 

    বর্ষায় তিনমাস বন্ধ থাকার পর পুজোর মুখে খুলেছে জঙ্গলগুলি। পুজোর ছুটিতে সবুজের আলোয়ানে মোড়া ডুয়ার্সের জঙ্গলে ছুটে আসেন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তবে এমনটা ভাবার প্রয়োজন নেই, দুর্গাপুজোর আমেজ সেখানে মিস হয়ে যাবে। লাটাগুড়ির জঙ্গলে যেমন সাক্ষী থাকা যাবে বনবস্তির পুজোর। লাটাগুড়ি থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে বিচাডাঙা বনবস্তি। বনদপ্তরের সহায়তায় সেখানেও উমার আরাধনা হয়। পর্যটকদের জন্য মহাষ্টমীর অঞ্জলির ব্যবস্থা ছাড়াও থাকে ভোগ চেখে দেখার সুযোগ। পুজোর চারদিনই সেখানে খিচুড়ি ভোগ মিলবে। এরও বিশেষত্ব আছে। এই ভোগ দেওয়া হয় গুচিয়া পাতায়। পাতাটি দেখতে কচি কলাপাতার মতো। তাতে মেশে খিচুড়ির স্বাদ। মিশে যায় বনের গন্ধ।

    এত গেল বনের ভিতরের কথা। আর বন লাগোয়া হোটেল, হোম স্টে, রিসর্টগুলিতে কী মিলবে? সেখানেও প্রতিবছরের মতো থাকছে দুর্গাপুজো স্পেশাল মেনু।  চিলাপাতার হোম স্টে, রিসর্ট বা লজগুলিতে পর্যটকদের জন্য থাকছে নানা স্বাদের দেশী নদীয়ালি মাছের পদ। বোরলির নাম তো সবারই জানা। কিন্তু চেপ্টি, ঘাকসির স্বাদ চেখে দেখা হয়েছি কি কখনও? বোরলির পাশাপাশি তোর্সা, বুড়ি তোর্সা ও বানিয়া নদীর এইসব মাছের একাধিক ডিশ থাকবে হোম স্টে, রিসর্টগুলিতে। এছাড়া থাকছে পাহাড়ি ডোল্লে লঙ্কা দিয়ে লাউয়ের ডগা, কলমি, কুমড়োর ডগা সহ নানা শাকপাতার ঝাল ঝাল চচ্চরি। তার সঙ্গে পর্যটকদের চাহিদা মতো কাতলা মাছ ও দেশি মুরগির ঝোল তো থাকছেই।

    আবার জলদাপাড়ায় মাদারিহাটের লজগুলিতে থাকছে হলং, মুজনাই ও তোর্সা নদীর এলং, চেপ্টি ও বোরলি মাছের ডিশ। ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘পুজোর সময় হলং নদীতে পর্যটকরা এলং মাছ ধরা দেখতে পারবেন।’ 

    বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়ার হোম স্টেগুলির আকর্ষণ আবার স্থানীয় ঝিলা মাছের বাহারি পদ। পুজোতে বেড়াতে এলে জঙ্গল সাফারির ফাঁকে রাজাভাতখাওয়া স্টেশনে রেলের কোচ রেস্তরাঁতেও ঢুঁ মারার সুযোগ রয়েছে। সেখানে মিলবে কন্টিনেন্টাল খাবার। রাজাভাতাখাওয়া ছাড়িয়ে সান্তলাবাড়ি, জয়ন্তী বা বক্সা ফোর্টের হোমস্টেগুলিতে নেপালি ও ডুকপাদের খাবারের স্বাদও পাবেন পর্যটকরা।
  • Link to this news (বর্তমান)