হাওড়ার স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মহিষাদলে ডেকে ৩০ লক্ষ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ১
বর্তমান | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কম দামে সোনা বিক্রির টোপ দিয়ে হাওড়ার শ্যামপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মহিষাদলে ডেকে ৩০লক্ষ টাকা লুট করে নেয় দুষ্কৃতীরা। ২১সেপ্টেম্বর মহিষাদল থানার গাড়ুঘাটা কালীমন্দিরের কাছে ওই ঘটনা ঘটে। সোমবার পুলিশ তপন বেরা নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে নগদ ২৭লক্ষ টাকা এবং ১২টি সোনালি বাট উদ্ধার হয়েছে। ওইসব বাট সোনার কি না, তা যাচাই করা হবে। মঙ্গলবার হলদিয়া মহকুমা আদালতে ওই ঘটনায় টিআই প্যারেড হয়। পুলিশ ওই ঘটনায় হাসেম শেখ, বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় সহ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রদীপ সামন্ত নামে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কোনওরকম সোনা না দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। সেইসময় পুলিশ লেখা দুষ্কৃতীদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রদীপবাবুকে তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে ঘটনাস্থল ছাড়েন শ্যামপুরের টেঠিখোলা গ্রামের ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
জানা গিয়েছে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ এবং তাঁর বাবার সঙ্গে প্রায় সাত-আট বছর ধরে অভিযুক্ত হাসেম শেখের পরিচয় রয়েছে। হাসেমের বাড়ি শ্যামপুর থানার কাঁঠালিবাড় গ্রামে। হাসেম প্রদীপকে কমদামে সোনা বিক্রির অফার দিয়েছিল। তাতে রাজি হন প্রদীপ। কথামতো ১৫সেপ্টেম্বর হাসেম ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে মহিষাদল থানার গাড়ুঘাটায় পৌঁছন। সেখানে যাওয়ার পর হাসেম তপন ও বিশ্বজিৎকে ফোন করে ডেকে নেয়। দু’জন একটি প্রাইভেট গাড়িতে আসে। সেই গাড়ির ভিতর প্রদীপকে সোনা দেখানো হয়। এরপর ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাড়ি ফিরে যান। ২০সেপ্টেম্বর তিনি সোনা কেনার আগ্রহ দেখান। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হয়। গত রবিবার প্রদীপ ৩০লক্ষ টাকা সঙ্গে নিয়ে হাসেমকে সঙ্গী করে শ্যামপুর থেকে একটি গাড়িতে গাড়ুঘাটায় পৌঁছে যান।
জানা গিয়েছে, প্রদীপ টাকা নিয়ে গাড়ুঘাটায় পৌঁছনোর আগেই সেখানে আগে থেকে হাজির ছিল তপন ও বিশ্বজিৎ। ওই ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে জোর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে টানাহ্যাঁচড়া চলে। তখনই পুলিশ লেখা দু’টি সাদা রঙের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সেখান থেকে ১০-১২জন ফাইবারের লাঠি নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর দিকে তেড়ে যায়। তিনি প্রাণভয়ে এলাকা ছাড়েন। ঘটনাস্থল থেকে ৩০লক্ষ টাকা সহ তপন, বিশ্বজিৎ ও হাসেমকে গাড়িতে তুলে নকল পুলিশের টিম ঘটনাস্থল ছাড়ে।
ধৃত তপনের বাড়ি মহিষাদল থানার উত্তর কাশিমনগরে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক চুরি, ছিনতাইয়ের কেস হয়েছে। বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। তার জিম্মা থেকেই ১২টি সোনালি বাট উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসব বাট নিয়েই স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের টোপ দিত। অপারেশনের তিনজনের মধ্যে বাকি দু’জন এখনও পলাতক। স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ বলেন, হাসেম শেখের সঙ্গে পরিচয় সুবাদে কমদামে সোনা কেনার অফারে রাজি হয়েছিলাম। হাসেম এভাবে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে মিশে আমাকে ঠকাবে ভাবতেও পারিনি।
মহিষাদল থানার পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার এফআইআর হয়েছে। ওইদিন তপন বেরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার জিম্মা থেকে ২৭লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। ১২টি সোনালি বাট পাওয়া গিয়েছে। দেখতে সোনার মতো লাগছে। সেগুলি আসল না নকল তা জানার জন্য টেস্ট করতে পাঠানো হবে।