প্রথম বছরেই বাজিমাত, ২৩ লক্ষ টাকার ব্যবসা তাঁতবস্ত্রের মেলায়
বর্তমান | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুজোর আবহে এবছরই প্রথম পুরুলিয়ায় সরকারি তাঁতবস্ত্র মেলা বসেছিল। প্রথম বছরেই বাজিমাত। মাত্র ১০ দিনের মেলায় প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার তাঁতের পোশাক বিক্রি হয়েছে। স্বভাবতই প্রথমবার এই মেলায় অংশগ্রহণকারী তাঁতশিল্পী সহ বিভিন্ন সোসাইটির সদস্যরা উচ্ছ্বসিত। প্রথম বছরের দুর্দান্ত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জেলা প্রশাসনের কর্তারাও। পুরুলিয়া জেলা হস্ত তাঁত উন্নয়ন আধিকারিক গৌতমকুমার বসাক বলেন, প্রথম বছর হিসেবে মেলায় বিক্রি ভালোই হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তেমন প্রচার করা সম্ভব না হলেও মেলায় প্রায় প্রতিদিনই ভিড় ছিল নজরকাড়া। আশা করছি দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই মেলা আরও বেশি সাড়া ফেলবে। চলতি মাসের ১৪ তারিখ পুরুলিয়া শহরের এমএসএ ময়দানে পুরুলিয়া তাঁতবস্ত্র মেলা বসেছিল। মেলার শেষদিন ছিল মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৩ তারিখ। প্রথম বছর এই মেলায় মোট ২২টি স্টল ছিল। একাধিক তাঁতশিল্পী সহ বিভিন্ন সোসাইটির সদস্যরা এই মেলায় যোগ দিয়েছিলেন। বর্ধমানের জামদানি শাড়ি থেকে শুরু করে নদীয়ার টাঙ্গাইল, পুরুলিয়ার সিল্ক, বাকুড়ার গামছা ও বিছানার চাদর, বীরভূমের কাঁথা স্টিচের সম্ভারে মেলা সেজে উঠেছিল। পুজোর আবহে মেলার আসর বসায় জেলার সদর শহর সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন। একপ্রকার এই মেলা থেকেই পুজোর কেনাকাটা চলেছে। মোট ১০ দিনের মেলায় ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী শিল্পী সহ সোসাইটির সদস্যদের দাবি, প্রথম বছর হিসেবে বিক্রি যথেষ্টই ভালো। আগামীতে এই মেলা অন্তত পুজোর এক মাস আগে থেকে শুরু হলে ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগামীতে এই মেলায় বিক্রি আরও বাড়বে বলেই তাঁরা আশা করছেন। নদীয়ার ঘোলাপাড়া তন্তুবায় সমবায় সমিতির তরফে উত্তম হালদার বলেন, প্রথম বছর হিসেবে মেলায় বিক্রি ভালোই হয়েছে। ১০ দিনের এই মেলায় বিভিন্ন দামের প্রায় ৪৫টি শাড়ি বিক্রি হয়েছে। আগামীতেও এই মেলায় অংশ গ্রহণের ইচ্ছে রয়েছে। তবে, আগামীতে পুজোর অন্তত এক মাস আগে মেলা হলে ভালো হয়। আশা করছি আগামীতে বিক্রি অনেকটাই বাড়বে। বীরভূম থেকে মেলায় অংশগ্রহণকারী শাহিন শেখ বলেন, তসরের শাড়ি সহ কাথা স্টিচ ও নানা ধরনের পোশাকের সম্ভার নিয়ে আমরা স্টল বসিয়েছিলাম। মেলার শুরু থেকেই ভালো সাড়া পড়েছিল। প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে। আগামী বছরও মেলায় আসার ইচ্ছে রয়েছে। প্রতীকী চিত্র