• ঘরে ফিরল বীর সোনানির নিথর দেহ, কান্নায় বুজে গেল মায়ের গলা, বললেন....
    ২৪ ঘন্টা | ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • প্রসেনজিত্ মালাকার: কাশ্মীরের অনন্তনাগের তুষারঝড়ে শহিদ প্যারা কমান্ডো সুজয় ঘোষের দেহ আজ পৌঁছালো বীরভূমের রাজনগর ব্লকের কুণ্ডীরা গ্রামে। দেহ আসতেই মুহূর্তের মধ্যেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রামে। সকাল থেকেই গ্রামের রাস্তায় মানুষের ঢল, শহিদকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায় হাজার হাজার মানুষ।

    মাত্র ২৭ বছর বয়সে দেশের জন্য প্রাণ দিলেন সুজয় ঘোষ। সেনা ট্রাক গ্রামের প্রবেশদ্বারে ঢোকার মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নমিতা ঘোষ ও বাবা রাধেশ্যাম ঘোষ। চোখে জল পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের। কান্নাজড়িত গলায় মা বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, এটাই আমার গর্ব।”

    শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা শাসক বিধান রায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী এবং বিজেপি জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও শহিদকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

    শহিদের স্মৃতিতে কুণ্ডীরা গ্রামের আকাশ মুখর হয়ে ওঠে “সুজয় ঘোষ অমর রহে” স্লোগানে। একদিকে বীর সন্তান হারানোর বেদনা, অন্যদিকে দেশের জন্য তাঁর আত্মবলিদানে গর্ব — এই দুই অনুভূতির মিশেলে স্তব্ধ বীরভূম।

    উল্লেখ্য, কাশ্মীরের অনন্তনাগে জঙ্গি দমন অভিযানের সময় তুষারঝড়ের মধ্যে আটকে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দুই জওয়ান। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল যোগাযোগ। এই সপ্তাহের প্রথম দিক থেকে নিখোঁজ ছিলেন দুই সেনাকর্মী। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয়েছিল ল্যান্স নায়েক বীরভূমের সুজয় ঘোষের দেহ। শুক্রবার উদ্ধার হয় মুর্শিদাবাদের পলাশ ঘোষের দেহ। শোকস্তব্ধ দুই জেলা।

    ভারতীয় সেনার এলিট প্যারা ইউনিটের এই দুই সৈনিক মঙ্গলবার কোকেরাং-এ একটি অভিযান চলাকালীন নিখোঁজ হন। আহলান গাডোলে  এলাকায় ওই অভিযান চলছিল। ভারতীয় সেনার কাছে খবর ছিল ওই এলাকায় জঙ্গিরা লুকিয়ে রয়েছে। সেই অভিযানে গিয়েই আর ফিরলেন না দুই জওয়ান। অভিযানের সময় প্রাণ হারালেন দেশের দুই এলিট প্যারা কমান্ডো।

    বীরভূমের রাজনগর ব্লকের ভবানীপুর পঞ্চায়েতের কুণ্ডীরা গ্রামের বাসিন্দা সুজয় ঘোষ (২৭)। ছেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে গোটা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে সেনাবাহিনীর তরফে ফোনে জানানো হয়, সুজয়কে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই আসে মর্মান্তিক খবর—সুজয় আর নেই। 

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)