গোটা রাজ্য থেকেই বিদায়ের মুখে বর্ষা, স্বাভাবিক সময়ে সরছে মৌসুমি বায়ু, পরিষ্কার আকাশ তারই ইঙ্গিত
বর্তমান | ১৩ অক্টোবর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ষা মরশুম গোটা রাজ্য থেকেই বিদায়ের মুখে। চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেবে বলে রবিবার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সোমবারের মধ্যে রাজ্যের কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নেবে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সারা পূর্ব ভারতে বর্ষাকাল আর থাকবে না। আশা করছে তারা। একটু দেরিতে বিদায় প্রক্রিয়া শুরু হলেও স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই রাজ্যে এবারের বর্ষাকাল শেষ হতে চলেছে। কারণ স্বাভাবিক নিয়মে ১০-১৫ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার কথা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, দিনদুয়েকের মধ্যেই গোটা রাজ্য থেকে মৌসুমি
বায়ু বিদায় নিতে পারে। সম্ভাবনা এমনই।
বর্ষা যে বিদায় নিতে চলেছে তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। গত কয়েকদিনের মেঘলা পরিবেশ কাটিয়ে রাজ্যের প্রায় সর্বত্র আকাশ এখন রোদ ঝলমলে। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ছাড়া কোথাও বৃষ্টি তেমন হয়নি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্ষা বিদায়ের নির্দিষ্ট মাপকাঠি আছে। বৃষ্টি কমে যাওয়ার সঙ্গে বায়ুর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়। বর্ষাকালে দখিনা বাতাস সক্রিয় থাকে। বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর উত্তুরে বাতাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। কমে যায় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা।
তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্ষাকাল বিদায় নেওয়া মানে, বৃষ্টি থেকে পুরোপুরি মুক্তি কিন্তু নয়। সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে, বর্ষা বিদায়ের পরেও দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর অক্টোবর-নভেম্বর, এই দুটি মাস বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ মাস হিসেবে পরিচিত। এইসময়ে দুটি সমুদ্রে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হলে তা শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আপাতত ২৩ অক্টোবর কালীপুজো-ভাইফোঁটা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব উপকূল লাগোয়া রাজ্যগুলিতে সেরকম কোনও আশঙ্কা নেই। জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। ওইসময়ের মধ্যে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। তবে যে জায়গায় নিম্নচাপ দুটি তৈরি হবে, তার প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে মূলত দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটকে ও কিছুটা পশ্চিম ভারতে। প্রথম দুটি নিম্নচাপের কোনোটি থেকে ঘূর্ণিঝড় হবে কি না সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর এখনও কিছু জানায়নি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ পূর্ব উপকূলে এরপরও থাকবে। মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। কারণ নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর বঙ্গোপসাগরে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে সেটির দক্ষিণ অন্ধ্র বা তামিলনাড়ু উপকূলের দিকে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ঘূর্ণিঝড় না-হলে পুবালি বাতাসের সক্রিয়তা বৃদ্ধি, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাব প্রভৃতি কারণে বর্ষা বিদায়ের পর রাজ্যে অসময়ের বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জানাচ্ছেন আবহাওয়া অধিকর্তা। প্রসঙ্গত, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে অসময়ের বৃষ্টি চাষআবাদের ভীষণ ক্ষতি করে। কারণ সেইসময় পাকা ধান আর শীতের সবজিতে মাঠ ভরা থাকে।