• অনুভূতির প্রদীপ থেকে টুনি লাইট হয়ে এলইডি! আলোস্বপ্নময় দীপাবলির আলো-ঐতিহ্যের জয়যাত্রায় বাঁকের পর বাঁক...
    ২৪ ঘন্টা | ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • পার্থ চৌধুরী: একসময় দীপাবলির (Diwali 2025) অন্ধকার রাত্রি আলোকিত হত মাটির তৈরি প্রদীপের (Earthen Lamp) আলোয়। কিন্তু সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে মাটির তৈরি প্রদীপের বিকল্প হয়ে উঠেছে বৈদ্যুতিক টুনি লাইট (Tuni Bulb)। এখন আবার বাজারে ছেয়ে গিয়েছে বৈদ্যুতিক এলইডি লাইটে (LED)। কারণে বেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গিয়েছে টুনি লাইট। তবে লাইটের রকমফের যাই ঘটুক না কেন, তাকে নিয়ে নিত্যনতুন চমৎকারিতা দেখানোর কাজে বর্ধমানের রতন শীল আজও একমেবাদ্বিতীয়ম। 

    আলো-রোশনাইয়ের চমক

    এ বছরও হয়তো তাঁর তৈরি বৈদ্যুতিক এলইডি বাতির আলো-রোশনাইয়ের চমকে দীপাবলির অন্ধকার রাত্রি আলোকোজ্জ্বল হবে বর্ধমান-সহ রাঢ়বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়। এ নিয়ে কী বলছেন স্বয়ং রতন শীল? রতনবাবু বলছেন, আমার তখন বয়স ১২-১৩ বছরের মতো। তখন থেকেই এই লাইটের কাজ করছি। চন্দননগরে ছিলাম প্রায় ১০ বছর। অনেকের সঙ্গে কাজ করেছি। তবে একটা জিনিস আমার গর্বের-- আমি সম্মানের সঙ্গে আজও এই কাজ করে যাচ্ছি। ঠাকুরের আশীর্বাদে সবই সম্ভব।

    টুনি লাইট থেকে এলইডি

    একসময় টুনি লাইট তৈরি করতেন রতন শীল। পরে এলইডি যুগে পা রেখে নিজেকে বদলে নিয়েছেন সময়ের সঙ্গে। তিনি জানান, এলইডির কাজটা প্রথমে কঠিন মনে হয়েছিল, ভাবতাম, ঠিকঠাক পারব তো? কিন্তু এখন বুঝি, টুনি লাইটের তুলনায় এই কাজ অনেক সহজ।

    পুজোর মরসুম, আলোর মরসুম

    দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো-- এই সময়টাই রতনবাবুদের সবচেয়ে ব্যস্ত থাকার মরসুম। ৫০ থেকে ১২০ পিস পর্যন্ত অর্ডার আসে তাঁর কাছে। সব লাইটই তিনি নিজের হাতে তৈরি করেন। আমি ভালো মানের তার ব্যবহার করি, তাই আমার বানানো লাইট অনেক বছর টেকে-- বলেন রতন। প্রতিটি লাইট বিক্রি হয় প্রায় ১২০ টাকায়। মেশিনে নয়, সম্পূর্ণ হাতে তৈরি তাঁর এই লাইট এখন রাঢ়বঙ্গের নানা এলাকায় আলোর রোশনাই ছড়াচ্ছে। তাঁর কথায়, প্রদীপ একটা ঐতিহ্য, একটা অনুভূতি। আর লাইট এখন আধুনিক সাজসজ্জার অংশ। এই সময়টাই রতন শীলের জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দীপাবলির আগে দিন-রাত এক করে তিনি তৈরি করছেন আলোয় ভরা স্বপ্ন। এই দীপাবলিতেও তাঁর বানানো এলইডি বাতিতেই আলোকিত হবে বর্ধমান-সহ আশেপাশের গ্রামবাংলা।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)