• বাংলায় SIR-এর আগেই বড় আপডেট! চার মাসে ভোটার তালিকায় ১১২ নাম বাতিল, বাদ পড়বে আরও ৭৫০? উত্তেজনা বাড়ছে...
    ২৪ ঘন্টা | ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলায় SIR (SIR in Bengal) নিয়ে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে। ভারতীয় ভোটার কার্ডধারী বাংলাদেশীরা (Bangladeshi with Indian VOter Card) - চার মাসে ১১২টি কার্ড বাতিল, ৭৫০টিরও বেশি এখনও পর্যন্ত পাইপলাইনে। আর কিছু মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। বিজেপি (BJP) বারংবার হুমকি দিয়েছে SIR নিয়ে, আর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান (Mamata Bandyopadhyay) ততই জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর দৃঢ় মতামত। একটি নামও যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তাহলে রাজ্যে আগুন জ্বলবে। 

    জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Election Commissioner) কার্যালয় ভোটার তালিকা থেকে ১০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী নাগরিকের নাম বাদ দিয়েছে। রাজ্যের ১০টি জেলায় এই বাংলাদেশী ভোটারদের প্রাথমিকভাবে বিদেশী আঞ্চলিক নিবন্ধন অফিস (FRRO) শনাক্ত করেছে। ৭৫০ জনেরও বেশি প্রতারক বিদেশী ভোটারের তদন্ত এখনও চলছে। বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয় ভোটার কার্ড আবিষ্কারের পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া রাজ্য সিইওর দপ্তরের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, কলকাতা, মুম্বাই এবং দিল্লীর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের সময় এই ঘটনাগুলি প্রকাশ্যে আসে। কিছু বাংলাদেশী নাগরিকের কাছে বাংলাদেশী পাসপোর্টের পাশাপাশি ভারতীয় ভোটার কার্ডও পাওয়া গিয়েছে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এফআরআরও গ্রেপ্তারকৃত নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডের বিবরণ রাজ্য সিইওর দপ্তরে পাঠিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীকালে সিইওর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের (ডিইও) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

    এসম্পর্কে আগেই বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনো একজন সঠিক ভোটার বা নাগরিক যেন বাদ না যায়। সঠিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া বা তাদের বিরক্ত করা বরদাস্ত করবে না তৃণমূল। বিজেপি টাকা আটকে রেখেছে তবু কোনো সমস্যা ফেলতে পারেনি বাংলা কে তাই এসব করছে বিজেপি । বিহারে দেখা গিয়েছে সঠিক ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে। এসব বাঙলায় চলবে না। 

    বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ এবং প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল বিরোধীরা। তাতে বিতর্কও হয়েছে এবং মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এই আবহে নির্বাচন কমিশন এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। ঝামেলা কমিয়ে এসআইআর-কে ভোটার-বান্ধব করে তোলাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হতে চলেছে। নথিপত্রের জটিলতা, ফর্ম পূরণ করার মতো সমস্যাগুলি নিয়ে বিহারে এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এখন কমিশন এই বিষয়গুলিতে নমনীয় হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    বিহারে এসআইআর চলাকালীন প্রথমে প্রত্যেক ভোটদাতার কাছে নতুন নথি চাওয়া হয়েছিল। এর ফলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। এখন কমিশন এই নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। এই আবহে  পশ্চিমবঙ্গ সহ একধিক রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এমন ভোটারদের চিহ্নিত করতে পারেন যাদের কাছ থেকে পুরানো রেজিস্টার এবং পারিবারিক নথি বা শংসাপত্র চাওয়া হবে না। উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে ২০২৫ সালের এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকাতেও সেই ভোটারের নাম থাকে বলে জানা গিয়েছে।

    ফর্ম পূরণ না করার জন্য নাম অপসারণ নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। ফর্ম পূরণ না করলে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ নাও দেওয়া হতে পারে এবারে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে প্রতিটি ভোটারকে পুনরায় এই প্রক্রিয়ায় যোগদানের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এদিকে এসআইআর-এর সময়সীমা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলা, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরিতে এসআইআর সম্পন্ন করার জন্য খুব বেশি সময় নেই কমিশনের কাছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে নতুন বিধানসভা গঠন করতে হবে। কমিশন সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে। তাই দীপাবলির পরেই এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)