বিধান সরকার: রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee) চুঁচুড়া পুরসভায় শহর সভাপতির ডাকে বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত হন শুক্রবার। তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা আছে রচনার জন্যই শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় চুঁচুড়া শহর সভাপতি হয়েছেন। সেকথা রচনার কানেও গেছে। তাই আজ সভা মঞ্চ থেকে রচনা স্পষ্ট করে দেন শ্যামাপ্রসাদ নিজের দমে সভাপতি হয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদের ডাকনাম ফণী। সাংসদ রচনা হাতে ফনা দেখিয়ে বলেন, 'ওঁর সততা ওঁর কর্মদক্ষতা ওঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউ না একজন ক্ষুদ্র মানুষ। সে কথা বললেই একজনকে কাউন্সিলর করে দেবে বিধায়ক করে দেবে সভাপতি করে দেবে তা হয়না। উনি কী সেটা আগামী পাঁচ বছর দেখিয়ে দেবেন তার জন্য রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাগবে না। ওঁর নামের সঙ্গে ফণী আছে ছোবল মারতে সময় লাগবে না। যারা ওঁর দিকে হাত তুলছেন মনে রাখবেন ওঁর হাতে ফণী আছে'।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ঘোষিত বিধায়ক অসিম মজুমদার বিরোধী গোষ্ঠীর। তিনি সপ্তগ্রাম বিধায়ক তপন দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অসিত মজুমদারের দ্বন্দ্ব প্রকট হতে শ্যামাপ্রসাদকে রচনার শিবিরে দেখা যাচ্ছে। এবং তারপরেই তার এই পদপ্রাপ্তি। এদিন তাঁর ডাকে শহরে যখন বিজয় সম্মেলন হচ্ছে সেখানে অনুপস্থিত বিধায়ক অসিত। অসিত জানিয়েছেন তার অন্য কাজ আছে তাই তিনি সেখানে যেতে পারেননি। তবে তিনি এও জানিয়েছেন শহরের যে তোরণ বাঁধা হয়েছে সেখানে সবার ছবি থাকলেও অসিতের ছবি নেই।
যদিও সভামঞ্চের ব্যানারে রচনা অসিত দুজনের ছবিই ছিল। তৃণমূল সূত্রে খবর অসিত মজুমদার শহর সভাপতি করার জন্য যার নাম প্রস্তাব করেছিলেন দল তাকে মানেনি। বাণীমন্দির স্কুলে স্মার্ট ক্লাস রুম তৈরি নিয়ে রচনা অসিতের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই দ্বন্দ্ব মেটার কোন লক্ষণ নেই। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন তার আগে বিধায়ক সাংসদকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। যেখানে বিধায়ক উপস্থিত সেখানে সাংসদ নেই আর যেখানে সাংসদ আছেন সেখানে বিধায়ক অনুপস্থিত। কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী বিজেপিও।