• গিধনিতে রাজরাজেশ্বরী রূপে পূজিত মা কালী, দেবীর স্বপ্নাদেশে ক্যানসারমুক্ত বধূ
    বর্তমান | ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: রাজরাজেশ্বরী দেবীর স্বপ্নাদেশে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন এক বধূ। সেই সময় থেকেই ঝাড়গ্রামের গিধনিতে মা কালী রাজরাজেশ্বরী রূপে পূজিত হচ্ছেন।  প্রতিবছর ঝাড়খণ্ড ও এরাজ্যের হাজার, হাজার ভক্ত গিধনিতে রাজরাজেশ্বরীর পুজোয় ভিড় জমান।

    ঝাড়গ্রাম জেলার গিধনি রেলস্টেশন সংলগ্ন জামবনী ব্লকের কালীপুজো জেলার সবচেয়ে প্রাচীন।বছরভর এখানেঅমাবস্যায়মায়ের পুজো হয়। তবে প্রতিবছর দীপান্বিতাঅমাবস্যায় এই দেবী ‘রাজরাজেশ্বরী দেবী’ হিসেবে পুজো পান। এই পুজোর সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্য হল, এখানেশাক্ত মতে পুজো হলেও বলি এখানে নিষিদ্ধ। কালীপুজোর রাতেমহাযজ্ঞ হয়। আগে এই পুজো কমিটির নাম ছিল ‘রেলওয়ে কাম পাবলিক কালী মেলা কমিটি।’

    জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে জামবনীর পড়িহাটি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বিজড়াবাঁধি গ্রামের সন্তোষ পানিগ্রাহীর হাতধরে এই পুজোর শুরু হয়। ১২০ বছর আগে সন্তোষবাবুর স্ত্রী শরৎকুমারী পানিগ্রাহী ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হন। ওই মহিলার মুখে ও গলায় ক্যানসার ধরা পড়েছিল। তিনিই স্বপ্নেএই দেবীকে পেয়েছিলেন। দেবীর নির্দেশেই এখানে ১৯০৫ সালে তাঁরা সস্ত্রীক এই কালীপুজো শুরু করেন। পুজো করে শরৎকুমারী দেবী ক্যানসার মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ৮৪ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হন।  ঘটনার পর থেকেই এই দেবীকেএলাকাবাসী জাগ্রত বলে মানেন।এখানে প্রথমে মাটির মূর্তি দিয়ে পুজো হতো। সোনার গয়নার ব্যবসার সূত্রে সন্তোষবাবুর রাজস্থানের জয়পুর শহরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেখান থেকেই বিশেষ পাথরের তৈরি কালী মূর্তি এখানে নিয়ে আসেন তিনি। তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরি ও গিধনির বাসিন্দারা সবাই মিলে তৈরি করেন গিধনি কালীপুজো কমিটি। পরে এখানে মন্দির হয়। পুজোর সময় তৈরি হয় অন্নভোগ। কালীপুজোয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে আসা ব্রাহ্মণরা ও  মন্দিরের পুরোহিত একযোগে মহাযজ্ঞ করেন।এখানে মায়ের কাছে মানত করা বলির জন্য নিয়ে আসা পাঁঠাগুলিকে  পুজোর ফুল, মালা ও প্রসাদ খাইয়ে  মন্দির প্রাঙ্গনে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুজো কমিটির সহ সভাপতি দেবেশ পানি বলেন, সন্তোষবাবু আমার জ্যাঠা মশাই ছিলেন। জেঠিমার সঙ্গে তাঁরাই এই পুজো শুরু করেছিলেন। পরে গিধনিবাসীর সাহায্য নিয়ে পুজো কমিটি হয়। সামনের বছর আমাদের মন্দিরের মূর্তি প্রতিষ্ঠা ৭৫ বছর পূর্ণ করবে।
  • Link to this news (বর্তমান)