অভিষেকের ডিজিটাল যোদ্ধার পালটা, ভোটের আগে ৫ সোশাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞই ভরসা বিজেপির
প্রতিদিন | ২১ অক্টোবর ২০২৫
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: সোশাল মিডিয়ায় এই নতুন ‘লড়াই’-এর ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পালটা দিতে ভিনরাজ্য থেকে পাঁচ সোশাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞকে বাংলায় আনতে চলেছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই এনিয়ে কলকাতায় বিশেষ বৈঠক সেরেছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা।
সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ইনফ্লুয়েন্সাররা আগামী দিনে জনমত গঠনের বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের অস্ত্র হিসাবে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল লড়াইয়ের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের এই মোক্ষম অস্ত্র সামলাতে পাঁচ হেভিওয়েট ডিজিটাল বিশেষজ্ঞকে অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসতে চলেছে গেরুয়া শিবির। নির্বাচন পর্যন্ত তাঁরা বঙ্গ বিজেপির পাঁচ সাংগঠনিক জোনের দায়িত্বে থাকবেন। এব্যাপারে কলকাতায় জরুরি বৈঠক করেছে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা তথা বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য, রাজ্য সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনর সপ্তর্ষি চৌধুরী প্রমুখ।
ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স হ্যান্ডেল, ইনস্ট্রাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমকে কীভাবে দ্রুত কাজে লাগাতে হবে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় দলের বিভিন্ন জেলার কনভেনর ও কো-কনভেনরদের নিয়ে একটি কর্মশালাও করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সোশাল মিডিয়া কনভেনর সপ্তর্ষি চৌধুরী বলেছেন, ‘‘রাজ্যে দলের সোশাল মিডিয়াকে কীভাবে আরও সংগঠিত, শক্তিশালী ও জনমুখী করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করার জন্য কর্মশালা হয়েছে।’’
এই কর্মশালায় আলোচনা হয়েছে, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কীভাবে আরও বড় স্তরে কাজ করা যায়। পাশাপাশি দলের প্রতিটি কর্মীকে এই মাধ্যমে আরও সক্রিয়, আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল করে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অবশ্য রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, কার্যত চাপে পড়েই সোশাল মিডিয়াকে অস্ত্র করে মাঠে নামতে হচ্ছে বঙ্গ বিজেপিকে। কারণ, ‘বাংলা-বিরোধী’ সব চক্রান্ত রুখতে এই মোক্ষম অস্ত্রে ইতিমধ্যে শান দিতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। গত বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়ায় এই নতুন লড়াই ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’র ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাতেই শঙ্কিত দিল্লির বিজেপি নেতারা।