অর্ণব আইচ: দীপাবলিতে সস্তায় শুধু জামাকাপড় নয়। অনলাইনে সস্তায় মোমবাতি, বাজি থেকে শুরু করে গোবরের ঘুঁটে পর্যন্ত বিক্রির টোপ দিয়ে ফাঁদ পেতেছে সাইবার জালিয়াতরা! আর তা থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বাসিন্দাদের সতর্ক করছে পুলিশ।
আলোর উৎসবে যেমন বাজি একরকম অপরিহার্য, তেমনই বিভিন্ন ধরনের মোমবাতি বা প্রদীপ ছাড়া ভাবা যায় না দীপাবলিকে। আবার অনেক বাড়িতেই দীপাবলির পুজোয় গোবরের ঘুঁটে হচ্ছে প্রধান উপকরণগুলির মধ্যে একটি। এখন সবুজ বাজি, মোমবাতি, প্রদীপ থেকে শুরু করে ওই গোবরের ঘুঁটেও পাওয়া যায় অনলাইনে। শুধু ক্লিকের অপেক্ষা। কম্পিউটার বা ল্যাপটপে মাউজে ডবল ক্লিক অথবা মোবাইলের স্ক্রিনের উপর আঙুলের স্পর্শেই এগুলি সহজে চলে আসে বাড়িতে। আর এখানেই ফাঁদ পাতে সাইবার অপরাধীরা! বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা জানায় যে, সব থেকে সস্তায় হাতের মুঠোয় এসে যাবে দীপাবলির সব প্রয়োজনীয় জিনিস।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, অনেক সময়ই দেখা গিয়েছে যে, সাইবার অপরাধীরা বিশেষ নম্বর দিয়ে তাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলে। কেউ যোগাযোগ করলেই প্রথমে তাঁকে পাঠানো হয় দীপাবলি সংক্রান্ত বিভিন্ন বস্তুর আকর্ষণীয় ছবি ও সেগুলির দামও। খুবই সহজে এই জিনিসগুলি পাওয়ার জন্য কেউ রাজি হলেও তাঁকে ফর্ম ভরার নামে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়।
কেউ সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই কাজ করতে শুরু করে সাইবার অপরাধীদের পাঠানো ‘ম্যালওয়্যার’। কিছুক্ষণের জন্য মোবাইল বা ল্যাপটপ অকেজো করে নিয়ে তথ্য জেনে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় পুরো টাকা। আবার কখনও বা ওই লিঙ্কের মাধ্যমে মিরর অ্যাপ পাঠিয়ে যাবতীয় তথ্য জেনে নেয় জালিয়াতরা। ব্যাঙ্কের তথ্য জেনে হাতিয়ে নেয় টাকা। পুলিশের পরামর্শ, কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্বাভাবিক কম দামে কিছু কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দিলে সেগুলিকে এড়িয়ে চলতে। কারণ, সেগুলির মাধ্যমেই ফাঁদ পাতে সাইবার অপরাধীরা। কোনও সন্দেহজনক ফোন এলেও সাইবার অপরাধীদের রুখতে সেই কলগুলি এড়িয়ে চলতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।