নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, কান্দি: বারবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তা সত্ত্বেও কেন তাঁর শাস্তি হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন দলের নেতাকর্মীরা। হুমায়ুনের নিশানা থেকে জেলা নেতৃত্ব, বিধায়ক, সাংসদ কেউ বাদ যাচ্ছেন না। এমনকী, আক্রমণ শানাতে গিয়ে শীর্ষ নেতাদের প্রসঙ্গও টানছেন তিনি। প্রথমে তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিলেও এখন দলের নেতাকর্মীরা হুমায়ুনের শাস্তি চাইছেন। জেলার বিভিন্ন ব্লকে ও শহরে তৃণমূল কর্মীরা হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। শুক্রবারই জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে শাসকদলের সংখ্যালঘু সেলের কর্মীরা হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। এদিনই কলকাতায় দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি হুমায়ুনের বিষয়ে বৈঠকে বসেছে। সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঘাসফুলের নেতাকর্মীরা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।
তবে শনিবার হুমায়ুন ফের বিস্ফোরক দাবি করেছেন। দলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে ভোটে হারাতে বদ্ধপরিকর বলে হুমায়ুন জানান। তিনি বলেন, নিজে না লড়লে অন্য কাউকে দাঁড় করাব। যে অধীর চৌধুরীকে ২০২৪সালে হারিয়েছি, দরকারে তাঁর সঙ্গে সিট অ্যাডজাস্টমেন্ট করব।
অপূর্ববাবু পাল্টা বলেন, কে কোথায় প্রার্থী হবেন, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন। জেলার ২২টি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যারা থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে একজন কর্মী হিসেবে লড়াই করব। যিনি এত কথা বলছেন, তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড সবাই জানে। নির্বাচন এলেই বোঝা যাবে।
হুমায়ুনের সম্পর্কে তৃণমূলের জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাজ্যের নেতাদের অনেকেরই উপলব্ধি, নিজে সুবিধা না পেলেই তিনি দলকে অস্বস্তিতে ফেলেন। শনিবার শাসকদলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে মহিলা তৃণমূলের জেলা সভাপতি ফতেমা বিবি বলেন, হুমায়ুন কবির লাগাতার দলবিরোধী কথাবার্তা বলছেন। আমি একজন মহিলা। দু’বার জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছি। উনি বলছেন, ওঁর জন্যই নাকি আমরা জনপ্রতিনিধি হতে পেরেছি। দলের অন্য সংখ্যালঘু বিধায়কদের নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। উনি এত বড় নেতা যে, ভোটের সময় মাঠে-ময়দানে দেখা যায় না। সংখ্যালঘুরা যখন বিজেপির হাতে অত্যাচারিত হচ্ছে, তখন উনি বিজেপি করতে গিয়েছিলেন। উনি এই জেলায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বেশি কাজ করেছেন।
এদিন কান্দির নজরুল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ক্ষোভ উগরে দেয় ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখানে কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুকান্ত ত্রিবেদী, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গৌরব চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা আইনাল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বলেন, হুমায়ুনের বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। দলের সর্বোচ্চ নেতানেত্রীর বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেছেন। তাই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
জবাবে হুমায়ুন সাহেব বলেন, একশোবার বলব। আমার ছবিতে ঝাঁটা মারার সময় শৃঙ্খলাভঙ্গ হয় না? ভরতপুরে বিজয়া সম্মিলনীতে শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়নি? কানাই মণ্ডল ক’দিন আগে যে ভাষা প্রয়োগ করল, অপূর্ব সরকার যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় দ্বন্দ্ব বাধিয়ে চলেছে, তাতে শৃঙ্খলাভঙ্গ হচ্ছে না? শুধু হুমায়ুনই শৃঙ্খলাভঙ্গ করে, বাকিদের সাত খুন মাফ? তিনি জানান, দু’বার শোকজের জবাব দিলেও সদুত্তর পাননি। ফের নোটিশ এলে দেখা যাবে।